6

হয়তো তোমারই জন্য -পর্ব ৩

 

আনিকার স্বপ্নের দিন গুলি শুরু হলো। ভালোবাসি না বলেও ভালোবাসা যায়, স্পর্শ না করে জুড়ে থাকা যায় সমস্ত অনুভূতি। সারাক্ষণ বিভোর হয়ে বিভোরকে ভাবে। তবে বিভোর এতোটা সময় পায়না৷ নিজের কাজ নিয়েই বেশ ব্যস্ত থাকে। কয়েকটা দিন কথা বলা হয়নি আনিকার সাথে, তবে কাজের মাঝেই ওর কথা মনে হয়। বিভোর নিজের মনে ভাবে, আমি তো এমন ছিলাম না, কি হলো আমার! মেয়েটার চোখে কি মায়া আছে?

কাজ করতে করতে ক্লান্ত হলেও আনিকার কথা মনে হয়, নিজের চেয়ারে চোখ বন্ধ করে বসে মনে হয়, আনিকা এসে পাশে দাঁড়ালে মন্দ হতো না! আনিকা কি এভাবে অনুভব করে আমাকে?

গোরান থেকে মেজ খালাম্মা এসেছেন বিভোরের বাসায়। উদ্দেশ্য এক পাত্রী, তাকে দেখতে যেতে হবে! বিভোর হঠাৎ খুব বিরক্ত বোধ করলো।

রাতে মা এলেন বিভোরের কাছে, সত্যি করে বলতো, আনিকাকে নিয়ে কি কিছু ভাবছিস! বিভোর ধরা পড়ে গেলেও নিজের ভারসাম্য ঠিক রাখলো। বললো, আমি একা ভাবলে তো হবে না মা, আনিকারও ভাবতে হবে, ওর পরিবারেরও ভাবতে হবে।

তাছাড়া ও মাত্র সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে, গ্রাজুয়েশন শেষ না করে কি ওর পরিবার বিয়ে দিতে চাইবে? আমারও একটু সময় প্রয়োজন। দেখা যাক কি হয়! তাছাড়া আনিকার সাথে আমার দু তিন বার কথা হয়েছে কিন্তু এমন কোন সম্পর্ক তৈরি হয়নি!

সত্যিই ভালোবাসি কথাটা না বললে সম্পর্ক কোন নাম পায় না! অনুভব করলেও নাম পায় না! বন্ধুত্ব আর ভালোলাগায় আটকে থাকে। আনিকা যদি বিরক্ত হয় কিছু বললে, যদি সস্তা মনে করে! তবে কেন যেন বিভোর আনিকার কাছে অনেক প্রশ্রয় পায়, অনেকটা স্পেস। কোথাও অনেক দাবী ওর আনিকার উপরে।

একদিন সকালে বিভোরকে অনলাইন দেখে আনিকা নক করলো, কিন্তু বিভোর উত্তর দিতে পারেনি। আনিকার ভীষণ মন খারাপ হলো। আজ নটা থেকে একটানা ক্লাশ। সাড়ে বারোটায় শেষ।।বিকেলে একটু সেমিনারে বসতে হবে। আনিকা একটা ক্লাশ করার সময় ফোন ভাইব্রেট করলো।

আনিকা দেখলো বিভোর! ক্লাশ শেষ হতে আরো দশ মিনিট, আনিকা টেক্সট করে দিলো, ক্লাশে! ১০ মিনিট পরে ফোন করছি!
বিভোর পাল্টা টেক্সটে রিপ্লাই দিল, আমি নিচে ওয়েট করছি, ক্লাশ শেষে চলে এসো!

বিভোর এসেছে! এই সময়ে তো আনিকার ক্লাশ থাকে, তাও! কেন? কোন সমস্যা!

এই দশ মিনিট যেন অনেক লম্বা হয়ে গেলো!
আজ লিফটও দেরী করে আসছে!

এক রকম তাড়াতাড়ি করে বের হলো আনিকা! বিভোর বাইক সাইড করে দাঁড়িয়ে ছিল, বিভোরকে দেখেই আনিকার সেই হাহাকার ভাবটা হয়, এতো কাছে তবু যেন কত দূরের কেউ!

বিভোর বললো, ক্লাশ ঢপ দাও, চলো একটা জায়গা থেকে ঘুরে আসি! যাবে?

আনিকা মনে মনে বললো, রাজপুত্র, তোমার সাথে আমি পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে যেতে পারি!

তবে মুখে বললো, জে কে স্যারের ক্লাশ মানে এটেনডেন্স দিবে না!

বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বিভোর বললো, একটা এটেনডেন্স এ কি আর হবে! এসো!
আজ উবার পাঠাও ভেবো না, রাস্তা খারাপ, শক্ত হয়ে বসো!

আপনি থেকে কখন আনিকা তুমি হয়েছে, আনিকা টের পায়নি, তবে বিভোর আনিকাকে তুমি বলতেই পারে!

বাইকে বিভোরের গা ঘেঁষে বসে আনিকার মনে হলো, কেমন একটা বুনো মাতাল করা ঘ্রাণ! মরে যাচ্ছি মনে হয়!
বিভোরকে ধরতেই হাত কেঁপে ওঠে, এই কাঁপন অন্য রকম, টের পায় বিভোর, মনে মনে অধিকারটা দৃঢ় হয়, তবে প্রকাশ করে না!

শহর ছাড়িয়ে ওরা ছুটে চলে অনেক দূরে! আনিকার মনে হয়, এই পথটা যদি সত্যি শেষ না হয়, কি দারুণ হতো! কিন্তু চল্লিশ মিনিটের মাথায় ওরা মনুর টেক পৌছে যায় একপাশে কচুরিপানা ভাসা ইছামতি! কিছুটা সামনে সবুজ ধান ক্ষেত, আরো কিছুটা দূরে এসে সামনে পড়ে দিগন্ত বিস্তৃত হলুদ আর হলুদ সর্ষে ক্ষেত! আনিকার মনে হয়, এ যেন পৃথিবীর বাইরে কোথাও এসে পড়েছে! পথের পাশে বাইক রেখে নেমে পড়লো হলুদের দেশে! আনিকার মনে হলো ছুটে বেড়ায়!

তবে বিভোর বাধা দিলো, বললো, উহু, ছেলেমানুষি নয়, এসো ছবি তুলে দিই, বিভোর অনেক গুলো ছবি তুলে ফেলে নিজের ক্যামেরায়! সর্ষে ক্ষেত পেছনে ফেলে, নদীর পাড় থেকে ঘাস বিছানো একটা জায়গায় একটু সময় বসে! রামধনু আঁকা কচুরিপানা ফুল তুলতে গেলো আনিকা, বিভোর বাধা দিলো, বসো, আমি এনে দিচ্ছি! এক সাথে আট দশটা ফুল এনে দিল বিভোর!!

হাতে সময় অল্প, তাই উঠতে হবে! ওরা হেঁটে বাইকের কাছে এগোয়!
সবুজম ধান ক্ষেত দেখে বিভোর বললো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা লাইন আছে, পরণে ধানী রঙের শাড়ি…. রক্তকরবী নাটকের, পড়েছো!

—চেষ্টা করেছিলাম, কিছু বুঝতে পারিনি!

— আমার ধানী রঙ মনে হলে, এই সবুজ রঙটা মাথায় আসে! পাকা ধান মনে হয় না!
—বুঝলাম, আপনার সবুজ রঙ পছন্দ, বলে আনিকা হাসলো!

এবার বিভোর আনিকাকে নিয়ে এলো ওদের খামারবাড়িতে। বিভোর ছোট বললেও জায়গাটা ছোট নয়, অনেক বড়। আনিকা জিজ্ঞেস করলো, এ তো পুরো পিকনিক স্পট!!

বিভোর বললো, তুমি তো আমার খামারবাড়িকে ইনসাল্ট করছো!
একটা টিনশেড ঘর করা, ওয়াশরুম সহ, বিভোরের রেস্ট রুম! আর কিছুদূরে দুটো পরিবার থাকে। সমস্ত কিছু দেখাশোনা করার জন্য! পেছনটা বাগান, একটা পুকুরও আছে! আনিকা পুকুর ঘাটে বসলো!

বিভোর বললো, দেশ ছেড়ে না যাওয়ার কারণটা বুঝতে পারছো!
বাবা অনেক কিছু করে দিয়েছেন আমাদের, এখন তাকে রেখে চলে যাবো, ইচ্ছে করে না!

আনিকা মাথা নাড়লো!
আগেই বলে দেওয়া ছিল, দুপুরে খাবার ব্যবস্থা বিভোরের স্টাফেরা করে রেখেছিল। শীতকালের বেলা দৌড়ে শেষ হয়ে যায়!
তাই তিনটা বাজতেই বিভোর আনিকাকে নিয়ে বের হয়ে গেলো। সাড়ে চারটার মধ্যে বাসায় পৌছে গেলো আনিকা!
নিজের রুমে ঢুকে মনে হলো, এতক্ষণ কি স্বপ্ন দেখছিলো! আরো কিছুক্ষণ সময় বিভোরের সাথে থাকা যেত! এ তৃষ্ণা মেটার নয় বোধহয়!

 

###

বিভোর আর আনিকার গল্পে ক্রমশ আরো পাতা জুড়ে চলে, তবে ভালোবাসি বলা হয়নি কারো পক্ষ থেকেই। আনিকার ঘুম ভাঙে, মিষ্টি রোদ এসে ওর গায়ে হাত বুলিয়ে যায়, তুলতুলে অনুভূতিতে আনিকা বিভোরকে খোঁজে। তবে ব্যস্ত বিভোরের পক্ষে রোজ দেখা করা সম্ভব হয়না, আর কিছুটা সময় ফোন করার জন্য থাকলেও নামহীন সম্পর্কে দূরত্বে নিয়মিত কথাও হয় না।তবুও কোথাও দুজনের খুব ইচ্ছে করে, সম্পর্কটা নাম পাক, রাত দুপুরে বিভোরের ফোন আসুক, অথবা আনিকা এসে বিভোরের পাশে কিছুটা সময় বসে থাক।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি একটা সময়ে স্থানীয় ছেলেরা, ঠিক করলো পিকনিক করবে। তাই কয়েকজন মিলে বিভোরের কাছে চলে এলো! এই সময়ে পাড়ার পিকনিকটা বিভোর আয়োজন করে প্রতিবছর। এবারে বললো, তোরাই কর সব কিছু, আমি পাশে আছি!

ঠিক হলো, রাতে আয়োজন করা হবে, প্রতি বছরের মতো বাজার করে বাবুর্চি দিয়ে রান্না করা হবে। একজন দুজন করে প্রায় ত্রিশজন হয়ে গেলো! রাত জেগে গান বাজনা হবে, খাওয়া দাওয়া হবে! এবার বিভোর একটু ভেবে বললো, আর একটু এড কর, এলাকায় গন্যমান্য মুরুব্বিদেরও দাওয়াত করে ফেল, এই আয়োজন আমি করে দিচ্ছি!

আনিকা ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে ভীষণ অবাক হলো, বিভোর আর দুইটা ছেলে ড্রয়িং রুমে বসে বাবার সাথে কথা বলছে!বিভোর আনিকাকে দেখলো একবার, যেন চিনতেই পারলো না কিন্তু চোখ ভরা দুষ্টু হাসি! শেষপর্যন্ত জানা গেল, একটা পিকনিক আয়োজন করা হয়েছে, আনিকার বাবা, মেঘ আর আনিকাকে যেতে হবে! বিভোরের গলা শোনা গেল, আন্টি আর আনিকাকে নিয়ে আসুন আঙ্কেল, আমার মা আছেন, বোন আছে, আরও অন্য আন্টিরাও থাকবেন!

বিভোর চলে যাওয়ার ঘন্টাখানের পরে ফোন করলো আনিকাকে, বললো, চলে এসো কিন্তু! তুমি আসবে এজন্যই আলাদা ভাবে অনেক কিছু ভেবেছি! বিভোরের কথায় সব সময় একটা জোর থাকে, এই কথা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা এখনো আনিকার নেই!
তবুও বলল, এখানে তো, বাবা নিয়ে গেলেই যাওয়া হবে!

বিভোর বললো, হুম, এজন্যই আমি বাসায় গিয়ে বলে এসেছি!
আসবে, দেখো!

যাওয়া নিয়ে সমস্যা হলো না, তবে বাবা বেশিক্ষণ থাকলেন না, মেঘকে নিয়ে চলে এলেন! তুলি আর অন্য মেয়েরা আনিকাকে আসতে দিলো না! সবাই আশেপাশের, আনিকাই একটু দূরের। আনিকা কিছুক্ষণ বিভোরের মায়ের সাথে গল্প করলো!

সন্ধ্যার কিছুটা পরে, তুলি বললো, মা ভাইয়া ছাদে, আমি একটা কয়েল দিয়ে আসি, আপু তুমি যাবে?
এসো, ঘুরে আসি! আনিকাকে নিয়ে ছাদে গেলো তুলি! বিভোর গীটার নিয়ে বসে ছিল, তুলিকে দেখে বললো, কতদিন গান গাই না, সবাই বলছে গান গাইতে হবে!

আনিকা কোন কথা বললো না! তুলি কিছু সময় দাঁড়িয়ে চলে গেলো নিচে। বিভোর বললো, যাও দেখে এসো, রান্নার আয়োজন হচ্ছে, ছাদ থেকে দেখা যায়! আনিকা একাই গেল দেখতে, মিনিট দুয়েক পরে বিভোর এসে পাশে দাঁড়ালো, ডেকোরেশন থেকে চেয়ার এনে রাস্তায় রাখা হচ্ছে!

আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আনিকা বললো, অনেক রাত হয়ে যাবে না? বিভোর বললো, তোমাকে আগেই পৌছে দিয়ে আসা হবে, চিন্তা করো না!

—প্রতিবছরই এই আয়োজন করেন?

—-ছোটভাইরা পারলে প্রতিমাসেই করতো, তবে শীতকালের পরিবেশে এই পিকনিক জমে ভালো!

—কি গান গাইবেন? ঠিক করেছেন??

—- বুঝতে পারছি না, অনেক দিন টুং টাং করা হয় না!
কেমন হবে তাও জানি না!

একটু শীত শীত বাতাস বইছে, হয়ত শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে দুয়েকদিনে।

বিভোর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, আনিকা, তোমাকে একটা কথা বলা প্রয়োজন! আনিকা বিভোরের দিকে ফিরলো, কয়েক মুহুর্ত চুপচাপ কেটে গেলো! হয়ত অচেনা কোন আবেশে আনিকাও বিভোর হয়ে ছিল!
—কি বলতে চাইছেন?

বিভোর আরেকটু সময় চুপ করে থেকে হঠাৎ আনিকার হাত ধরে কাছে টেনে নিলো! মনে মনে হয়ত ভাবলো, মুখে ভালোবাসি বলাটা খুব কঠিন! ছাদের দেয়ালের পাশের জায়গাটা একটু অন্ধকার! বিভোরের কাছাকাছি গিয়ে সেই মাতাল করা বুনো গন্ধে আনিকার নিজেকে নেশাগ্রস্থ মনে হলো!

কয়েক মুহুর্ত কেটে গেলো, বিভোর আনিকাকে আরো কাছে টেনে দু হাত দিয়ে আনিকার মুখটা খুব কাছে নিয়ে এলো, আনিকার হাত পা বিবশ লাগছে, যেন কোন শক্তি নেই নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার! বিভোর আলতো করে চুমু একে দিল আনিকার ঠোঁটে, আনিকার নিজেকে অসাড় লাগছে, এটা কি সত্যি, এটা কি পৃথিবীর কোন অংশ, এটা কি বাস্তব, বিভোর কি সত্যি এত কাছে!

বিভোর ফিসফিস করে বললো, আর কিছু বলতে হবে??
আনিকা মুখ নিচু করে ফেললো!
আনিকার মিষ্টি একটা সুগন্ধে বিভোরের ঘোর লেগে যাচ্ছিল, কতটা মুহুর্ত কেটে গেলো, ওরা জানে না!

একটু পরে তুলি ডাকতে লাগলো, ভাইয়া নিচে ডাকছে, বিভোর আনিকাকে ছেড়ে সরে গেলো।
তারপর আবার আনিকার কানের কাছে মুখ রেখে বললো, আমি কিন্তু ভীষণ অভদ্র প্রেমিক, সহ্য করতে পারবে তো?
আনিকা পুরো ঘটনার আকস্মিকতায় লজ্জায় লাল হয়ে আছে, কানের কাছে বিভোরের ঠোঁটের আলতো ছোঁয়ায় আনিকা কেঁপে ওঠে। বিভোর টের পায়। এ কাঁপন কোন প্রথম স্পর্শের অনুভূতি। অদ্ভুত ভালোলাগায় বিভোরের মনটা ভরে যায়।

তুলি ছাদে চলে এসেছে, ও আসাতে বিভোর বললো, তোরা এখানে থাক, এখান থেকেই গান শোনা যাবে, নিচে যেতে হবে না। আমি যাচ্ছি। নিচ থেকে ছেলেরা চিৎকার করে ডাকছে, বিভোর ভাইই, কই তুমি, তুমি ছাড়া জমে না তো!!

বিভোর গীটার হাতে নিচে নেমে গেলো! রাস্তার উপরে গোল করে চেয়ার দেওয়া হয়েছে। বিভোর যেতেই সবাই ধরলো, ভাই তুমি শুরু করো! বিভোরের মুখে আলো পড়ছে, আনিকার ভীষণ লজ্জা লাগছে তাকাতে, তবুও চোখ ফেরাতে পারছে না!

বিভোর গীটারে টুং টাং করে গান ধরলো,

পাখিরে তুই দূরে থাকলে,
কিছুই আমার ভালো লাগে না!
পাখিরে তুই কাছে থাকলে,
হৃদয় নাচে, সুরের তালে!

কি মিষ্টি গলা, নাকি আনিকার মনে হচ্ছে, বিভোর কি ছাদের দিকে তাকাচ্ছে! অন্ধকারে আনিকাকে দেখা যায় না, তবুও বিভোর জানে আনিকা তন্ময় হয়ে শুনছে!

একের পর এক,

মন হাওয়ায় পেয়েছি তোর নাম,
মন, হাওয়ায় হারিয়ে ফেললাম,
…,….

আজ থেকে এক হাজার শীত বসন্ত পরে,
এই পথে যদি আসি আবার……

তিনটা একটানা গান গেয়ে বিভোর বললো, এবার কোরাস ধর,
আমার মনও না চায়,
সবাই একসাথে গাইলো,
এঘর বাঁধিগো কিশোরী,
চলোনা হই উদাসী!!

এবারে সবশেষের গান, বিভোর গাইলো,
আলগা করোগো খোঁপার বাঁধন…..
দিলওহী মেরা ফাঁস গেয়ি

আনিকা জিজ্ঞেস করলো, উনি কি গান শিখেছেন? তুলি বললো, না না, গীটার শিখেছিল, আর গান নিজে নিজেই গায়, বলো বোঝা যায়? আনিকা একটু হাসলো, মনে মনে বললো, আসলেই বিভোরকে কিছুই বোঝা যায় না! তবে আজ নিজের খুব সমৃদ্ধ মনে হচ্ছে, মনে হয়, আমার কাছে যা আছে, পৃথিবীর আর কারো কাছে সেটা নেই, আমার বিভোর আছে! শুধুই আমার!

এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতি। যাকে ভালোবাসি, সে শুধুই আমার৷ সে আমাকে ভালোবাসে। একজীবন কেটে যাবে বিভোরের হাসির দিকে তাকিয়ে। আনিকা বোধহয় পাগল হয়ে যাচ্ছে, এই ছেলেটা কেমন তোলপাড় করে দিলো বুকের ভেতর!

 

হয়তো তোমারই জন্য – পর্ব ৪ (শেষ পর্ব)

শানজানা আলম
 

লেখালেখির অভ্যাস বাবার কাছ থেকে পাওয়া। তিনি গল্প বলেন, নিজের চারপাশের কথাগুলোই লিখে দৃশ্যমান করার চেষ্টা চলে অবিরাম। প্রফেসর বাবা এবং স্কুল শিক্ষিকা মায়ের বড় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে। শানজানা আলমের লেখার সবচেয়ে ভালোদিক হচ্ছে তার গল্প বলার সহজ সাবলীল ভঙ্গি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন সময় কাটে লেখালেখি নিয়ে। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ "চন্দ্রাহত" "নিশীথ রাতের বাদল ধারা" ‘রূপকথা নয়’ ইতিমধ্যেই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

Click Here to Leave a Comment Below 6 comments