20

রোদের চিঠি – [শেষ পর্ব]

 

(১৫)

……… আজ কলেজের নবীনবরণ নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের সাথে এমপি সাহেব সহ পরিচালনা পর্ষদের আলোচনাসভা। ছাত্রপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদের নেতৃস্থানীয় ছাত্ররাও থাকবে।

নিশা, তকিব এসেছে। প্রিন্সিপাল স্যার সভা শুরু করলেন। নিশা বার বার দরজার দিকে তাকাচ্ছে, ও যতদূর জানে দলের পক্ষে আসিফই এই প্রোগ্রামের দেখাশোনার দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু সে কোথায়!

দুদিন আগে মাকে তকিবের বিষয়ে হালকা পজেটিভ সায় দেওয়ায় কথা কিছুটা এগিয়েছে, হয়ত বিয়েটাও হবে, কিন্তু নিশার চোখ শুধু আসিফকেই খোঁজে। আসিফ হয়ত এমপি সাহেবের ভাতিজিকেই বিয়ে করবে।

আলোচনা চলছে, সংসদের ছাত্ররা প্রস্তুতি সম্পর্কে জানালো, এমপি সাহেব বক্তব্য দিলেন, এখনকার ছাত্র রাজনীতি অনেকটা পরিস্কার যেটা বছর দশেক আগেও ছিলো না।
ছাত্র রাজনীতি বললেই সন্ত্রাসী বোঝাতো, কিন্তু এখন চেষ্টা করা হচ্ছে, ছাত্রজীবন থেকে যেন সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চা হয়।

কথা শেষ করার পরে প্রিন্সিপাল স্যার আসিফকে খুঁজলেন। ছাত্র সংসদের রায়হান বললো, আসিফ ভাই আসবে, একটু কাজ আছে বলেছে।

এমপি সাহেব জানেন আসিফের কাজ কি, তিনি বললেন, আজ হয়তো ও কথা বলতে পারবে না। আসতে দেরী হবে।

রায়হান বললো, সমস্যা নেই স্যার, ভাই সবটা বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে।

নিশা আবারও বাইরের দিকে তাকালো। রাত বাড়ছে, আজ কি আসিফ আসবে?

আসিফ ঢুকলো, প্রায় সাড়ে নটায়, তখন সভা প্রায় শেষ। এমপি সাহেবের পাশে গিয়ে টুকটাক কথা সারলো আস্তে। নিশা বসেছিলো চুপচাপ। একদম শেষে প্রিন্সিপাল স্যার বললেন, আমি আর একটা ছোট্ট সুখবর দিতে পারি, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি! নিশা অবাক হয়ে তাকালো স্যারের দিকে, তিনি হাসতে হাসতে বললেন, নিশাত আর তকিব আমি কি এখনি ঘোষণা দিয়ে দিবো!

নিশা মাথা নিচু করলো, প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে বাবা আলাপ করতে পারেন হয়তো। তকিব মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো। সভার অন্যরা অভিনন্দন জানালো নিশা আর তকিবকে, নিশা শুকনো মুখে হাসির চেষ্টা করলো, একবার আড়চোখে দেখলো আসিফ মাথা নিচু করে আছে, কি ভাবছে, কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না! দেখাবেই বা কেন, তার তো এখন সুবহানা আছে! নিশা অন্যদিকে মুখ করে রইলো।

মিটিং শেষে তকিব রিক্সা করে দিলো নিশাকে,তকিব অবশ্য জোর করছিলো নিশাকে পৌছে দিতে, নিশাই রাজি হলো না। তাই রিক্সা করে দিয়ে তকিব ডরমিটরির দিকে চলে গেলো। নিশা দেখলো সংসদের সামনে আসিফ কয়েকটা ছেলের সাথে কথা বলছে। ও হঠাৎ রিক্সাওয়ালাকে বললো, মামা আমার একটু কাজ আছে, আপনি চলে যান। রিকশা ওয়ালাকে দশ টাকা দিয়ে ছেড়ে দিলো নিশা। নিশা রিক্সা থেকে নেমে গেলো, এটা আসিফ খেয়াল করলো। কি হলো, ও রিকশা ছাড়লো কেন? তকিব সাহেবও চলে গেলেন! আসিফ ছেলে গুলিকে বিদায় দিয়ে গেটের বাইরে নিশার পাশে এসে দাঁড়ালো। নিশাকে আস্তে বললো, নিশা তোমাকে অনেক অভিনন্দন

নিশা বললো, আপনাকেও।

-রিক্সা ছেড়ে দিলে কেন?

-এমনিই, হেঁটে যাবো।

-আচ্ছা, যাও তাহলে। দাঁড়িয়ে পড়লে কেন?

-এমনিই, আপনি চলে যান, অনেক রাত বাড়ছে।

-হুম, এসো তোমাকে পৌঁছে দিই!

-না আমি একাই যাবো!

-আমি এতরাতে তোমাকে একা যেতে দিবো না!

নিশার চোখে পানি চলে এলো, ও কিছু না বলে হাঁটতে শুরু করলো, আসিফও পাশে পাশে হাঁটতে লাগলো।

-আপনি কবে বিয়ে করছেন? নিশা জানতে চাইলো

-জানিনা, দেখি!

-হুম, করে ফেলেন।

-হুম!

-সেদিন আপনাকে কিছু উল্টোপাল্টা কথা বলেছি, আমার জ্বর ছিলো অনেক, সেটা মনে রাখবেন না।

-হুম।

এরপর অনেকক্ষণ দুজন চুপচাপ হাঁটলো।
একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে নিশা হঠাৎ আসিফকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেললো।

-নিশা, পাগলামি করে না, প্লিজ ছাড়ো। কেউ দেখে ফেললে তখন তোমাকেই বদনাম করবে।
সেই ছোটবেলার পাগলামি ধরে রেখো না নিশা!

নিশা আরো জোর করে ধরতে চাইলেও আসিফ ওকে ছাড়িয়ে দিলো। তারপর বললো, এসো, তোমাকে পৌছে আমি বাসায় যাবো।

আসিফের ভেতরে ভেতরে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই সে কাউকে কিছু বলতে পারছে না। নিশাকেও না।

নিশাকে রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ার ঢুকিয়ে দিয়ে আসিফ চলে এলো। নিশা, তুমি তো চলে গিয়েছিলে, তাহলে আবার কেন সামনে এলে! কেন?!!!

নবীন বরণ ও আসিফ নিশা ফাইনাল

নবীণ বরণ প্রোগ্রাম অনেক বড় করে আয়োজন করা হয়েছে। অনেক ফান্ড পাওয়া গেছে, প্রথমে আলোচনা অনুষ্ঠান তারপর পর লাঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু মেয়েরা থাকতে পারবে না বলে এই অংশ বাদ দিয়ে সবার জন্য ভালো শুভেচ্ছা উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের ভিত্তিতে কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই খাতা সহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলেজের সিনিয়র প্রফেসরেরা আর প্রিন্সিপাল স্যার স্টেজে। স্টেজে এমপি সাহেব এসেছেন। সাবেক সংসদ সেক্রেটারি আসিফও এমপি সাহেবের পাশে এসে বসেছে।

নিশা ছবি তুলছিলো। আসিফকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে, যদিও নিশার সবসময় সেই গুন্ডা ভাবওয়ালা আসিফকে মনে পড়ে। আজ আসিফকে খুব হ্যান্ডসাম লাগছে। হালকা আকাশী রঙের পাঞ্জাবী পড়েছে, চোখে সানগ্লাস।

নিশা তকিবের পাশে বসে ছিলো। আসিফের বক্তৃতা শুনলো। তারপর উঠে চলে গেলো, তকিবকে বললো আসছি আমি, একটু কাজ আছে কমনরুমে।

আসিফ নিশাকে একপলক দেখেছে বক্তব্য দেওয়ার সময়, মনে হচ্ছে নীলপদ্ম সেজেছে আজকে। আসিফ আর তাকায়নি ওর দিকে। মন খারাপ করা সুন্দর নিশা। শ্যামা মেয়েরা এত মিষ্টি হয়!! মাথা ভরা মেঘের মত চুল, দূর থেকে মনে হয় তুলতুলে নরম ওই মেঘরঙা চুলগুলি।

বক্তৃতা শেষ করে আসিফ ফোন চেক করলো, টেক্সট করেছে নিশা!
“তিন নম্বর বিল্ডিং এ ২০৪ এর সামনে আসুন”
ব্যস, এটুকুই!

আসিফ টেক্সট চেক করে স্টেজ থেকে কলেজের তিন নম্বর বিল্ডিং এর দোতলায় তাকালো, ২০৪ এর সামনে নিশাকে বোঝা না গেলেও ওর নীল শাড়ি বোঝা যাচ্ছে।

এমপি সাহেব বক্তৃতা দিতে শুরু করলে একঘন্টার আগে শেষ হবে না। তাই পাশের আজহার ভাইকে আসিফ বললো, একটু আসছি। বলে আসিফ তিন নম্বর বিল্ডিং এর দোতলার দিকে এগিয়ে গেলো। আসে পাশে কেউ নেই, পুলিশ দিয়ে সবাইকে আলোচনা সভায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসিফ দ্রুত হেঁটে চলে গেলো!

কই বারান্দায় তো নিশা নেই! এদিকে তিনটে রুম পর পর।
২০৪ এর দরজা খোলা, আসিফ দরজার সামনে দাঁড়াতে ভেতর থেকে নিশা ওর হাত ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো! রুমের চারটা ফ্যানই ছাড়া, নিশার খোলা চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। নিশার দৃষ্টিতে কিছু একটা অন্যরকম, এই দৃষ্টি আসিফের খুব চেনা। অনেক বছর আগে এভাবেই নিশা খুব কাছে এসেছিলো।

আসিফের এখন টেনশন হচ্ছে, এখানে আসা মোটেও ঠিক হয়নি! কেউ দেখে ফেললে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালি পড়ে যাবে। সব চাইতে বড় কথা নিশার বদনাম হবে, এত দূরে দূরে থেকে তাহলে কি লাভ হলো!
নিশা সেটা বুঝবে না। নিশা এগিয়ে আসছে আসিফের কাছে আর আসিফ পিছু হাঁটছে!

–নিশা, কোন পাগলামি কোরো না প্লিজ!

নিশা কোন কথা বলছে না। আসিফের পিঠ ওয়ালে লাগানো হোয়াইট বোর্ডে ঠেকে গিয়েছে । নিশা একদম কাছাকাছি চলে এসেছে।

হঠাৎ আসিফের মনটা পাল্টে গেলো, কি হয় নিশা তার একটু কাছে এলে! নিশার অন্য জায়গায় বিয়ে হলেই বা কি! এতে কি ওর ভালোবাসা কমবে, এতটুকুও না।
আসিফের কাছে নিশা এখনো সেই ছোট্ট নিশাই আছে, সমাজের সব বাঁধা কি সব সময় মানতেই হবে!

নিশা আসিফের খুব কাছে চলে এসেছে।
আসিফ দুহাতে নিশার দুগাল ধরে মুখটা উপরে তুললো,
নিশা আসিফের সানগ্লাস খুলে নিয়ে বলতে গেলো, সব সময় চোখটাকে ঢেকে…..
কথা শেষ হলো না, আসিফ নিশার মুখ বন্ধ করে দিলো আলতো চুমু খেয়ে!
নিশা চোখ বন্ধ করে ফেললো! এই সময়টা অনেক লম্বা হয় না কেন! এই উষ্ণ আবেশ যেন কখনোই শেষ না হয়!
আলতো স্পর্শ গভীর থেকে গভীরতর হয়, আসিফ হারিয়ে যেতে থাকে কোন স্বর্গীয় আবেশে।

একসময় ঘোর কাটে, আসিফ নিশার কপালে আলতো চুমু খেয়ে বললো, তুমি নিচে চলে যাও নিশা, আমি একটু পরে আসছি! সহসা ওর মনে হলো, নিশাকে বলে, আমাকে বিয়ে করবে নিশা?

কিন্তু হায়! সময়টা এত বদলে গিয়েছে আজ! নিশার বিয়ে ঠিক হয়েছে তকিব সাহেবের সাথে।

নিশা চলে গেলো, একবারে প্যান্ডেলে গিয়ে তকিবের পাশে বসে পড়লো, যেন কিছুই হয়নি।

আসিফ একটু পরে গিয়ে স্টেজে উঠলো। নিশা অনেক অনেক ছবি তুলে ফেললো এই ফাঁকে। নিশা একদম সামনের সারিতে কর্ণারে বসেছে। তকিব সাহেবের পাশে। আসিফের কেমন যেন একটা অনুভূতি হচ্ছে, একটা সুখ সুখ ভাব, খুব ভালো লাগছে। নিশাকে আদর করে এত ভালো লাগছে কেন? নিশাকে যতোবার কাছে টানবে এমনই ভালো লাগবে? ভালোবাসার মানুষকে আদর করে যে স্বর্গীয় অনুভূতি, এই অনুভূতিটা অসাধারণ, এটা কিছুতেই হারাতে পারবে না আসিফ। এমনিতে আসিফ নিশার দিকে সরাসরি তাকায় না, আজ চোখ ফেরাতে পারছে না। মনে হচ্ছে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকে।

নিশার প্রিয় বেলি ফুল, আচ্ছা শুধু বেলি ফুলের মালা দিয়ে যদি নিশা সাজে, ওকে তো অপ্সরার মতো লাগবে, খোঁপায় আর গলায় বেলি ফুলের মালা, কান থাকবে ফাঁকা। আসিফ নিশাকে জড়িয়ে নিরাভরণ কানে আলতো করে আদর করবে!

নিশা হঠাৎ করে খেয়াল করলো, আসিফ ওর দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবছে, কি ভাবছে ও? আজ কি বেশি ছেলেমানুষি করে ফেলেছে নিশা? কোন অপরাধবোধ তো হচ্ছে না। লজ্জাও লাগছে না। আসিফই একমাত্র পুরুষ নিশার জীবনে, অন্য কেউ আসলেও আসিফ আসিফের জায়গায়ই থাকবে। কেউ ওর জায়গা নিতে পারবে না।আজ এভাবে দেখছে কেন নিশাকে, ওর দিকে তাকিয়ে নিশার এখন একটু একটু লজ্জা করতে শুরু করলো।

নিশা তকিবকে বললো, বাসায় চলে যাই এখন।আর ভালো লাগছে না বসতে।

–ওকে, কাল দেখা হবে তাহলে, নিশাকে তকিব এগিয়ে দিয়ে আসে কলেজের গেট পর্যন্ত।

আসিফ দেখলো নিশা তকিবের সাথে বের হয়ে যাচ্ছে। এই মুহুর্তে আসিফের মনে হচ্ছে তকিব নামের ছেলেটাকে মেরে হাড় ভেঙে দিতে পারলে ভালো লাগতো। নিশার “ব্যাড বয়” আসিফ যেমন ছিলো, আজকের ধীর স্থির সূক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন আসিফ হয়ে এটা পারা যায় না। আসিফ একটা নিঃশ্বাস ফেললো, আর তারপরেই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো।

আসিফ এসেছে চৌধুরী শাফায়াত সাহেবের কাছে, চৌধুরী বাড়ির বর্তমান মালিক। এই শিবরামকাঠিতে চৌধুরী সাহেবরা বনেদী ও অভিজাত পরিবার। তবে বিদেশে থাকার কারণে দেশে এসে এখানে আর আসা হয়না। এই বাড়িও আর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়না সেভাবে। তাই বাড়ি বিক্রির কথা ভাবছেন। যদিও এতো টাকা দিয়ে এই বাড়ি কেনার মতো লোক নেই শিবরামকাঠিতে। তার উপর এ বাড়ির কোন উপার্জন নেই।

শুধু পুকুরটায় মাছ ছাড়তে পারবে। শহর থেকে এতটা সাইডে এসে কেউ ভাড়াও থাকবে না। বাড়ির মধ্যে রোদ পরে না একদম। মোটামুটি যে কিনবে, তার লস প্রজেক্ট। আসিফ প্রায় পাঁচবছর ধরে ওখানকার দারোয়ান চাচাকে বলছে, বাড়ি বিক্রির কথা হলে যেন ওকে জানায়। সেই খবর দিয়েছে আসিফকে।

এর আগেও একবার এসেছিলো আসিফ, কিন্তু কথা শেষ হয়নি। আজ আবার এসেছে।

চৌধুরী সাহেবকে দেখে আসিফ সৌজন্যতা বোধ থেকে উঠে দাঁড়ালো। গতকাল ও প্রস্তাব দিয়েছিলো, পঞ্চাশ লাখ হলে ও বাড়িটা নিবে, আর দুইবারে টাকাটা দিবে।

চৌধুরী সাহেব বাড়িটা আশি লাখ চেয়েছেন। যদিও দোতলা বাড়ি, এতবড় জায়গার ওপর, সামনে পুকুর, ফার্ণিচার সহ, কোটি টাকার উপর দাম হয়।
কিন্তু এতো টাকা এই লস প্রজেক্টে এই এলাকায় কেউ ঢালবে না। সবাই সামনের দিকে জায়গা খুঁজে, যেখানে হয় বাসা ভাড়া হবে নয়তো মার্কেট করে ভাড়া দেওয়া হবে।

শাফায়াত চৌধুরী সাহেব জানেন আসিফ স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, কিন্তু সে প্রভাব খাঁটিয়ে আসেনি। চৌধুরী সাহেবকে অনুরোধ করেছে। যদি ক্রেতা না পাওয়া যায়, তাহলে আসিফকে দিতে বলেছে।

চৌধুরী সাহেব অনেক ভেবে কাগজপত্র তৈরি করেছেন।আসলে  আসিফ প্রভাব না দেখালেও অন্য কেউ কিনবে না।আর আসিফের সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন, ছেলেটা সৎ, সে টাকা দিয়ে দিবে।

আসিফ অবশ্য আশা করেনি যে চৌধুরী সাহেব রাজী হয়ে যাবেন। এই বাড়িটায় তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি আছে, সেটা যদি তার সঞ্চয় দিয়ে রক্ষা করা যায়, তাহলে সে করবে। সই করার সময় চৌধুরী সাহেব জানতে চাইলেন, আসিফ, আপনার এত কম বয়স, আপনি সম্ভবত আপনার জমানো টাকা গুলো দিয়ে এই বাড়িটা রাখতে চাইছেন। কিন্তু কেন?

আসিফ হাসলো, শুধু বললো, আপনার বাড়িটা আমার খুব কাছের একজনের খুব পছন্দ। কোনদিন সুযোগ পেলে আমি এটা তাকে উপহার হিসেবে দিতে চাই।

ফর্মালিটিজ শেষ হলে আসিফ এমপি সাহেবের বাড়িতে এলো। যদিও নিশার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, তবুও শেষ চেষ্টাটা আসিফ করবে, দ্বিধা থেকে যে দেরী হয়েছে, সেটা আরও বিলম্বিত হোক, আসিফ চায় না।

রাত সাড়ে দশটায় আসিফকে দেখে এমপি সাহেব ভীষণ অবাক হলেন। আসিফ বললো, স্যার আপনার কাছে একটা জিনিস চাইতে চেয়েছি। তিনি আসিফকে নিয়ে তার লাইব্রেরি রুমে ঢুকলেন।

 

★★★

তকিব একে একে নিশার তোলা কলেজের নবীন বরণ প্রোগ্রামের প্রিন্টেড ছবিগুলো দেখছিলো। নিশা ইউনিভার্সিটিতে ফটোগ্রাফিক সোসাইটিতে বেশ জনপ্রিয় ছিল। আগে একতরফা ছেলেরা ফটোগ্রাফার হলেও এখন অনেক মেয়েরাও খুব ভালো ছবি তোলে।

নিশা, তুমি কলেজ প্রোগ্রামে সামনে বসে যে ছবিগুলো তুলেছো, বেশিরভাগই তো তোমাদের ওই নেতা আসিফ সাহেবের। স্টেজে উঠছেন, বসছেন, কথা বলছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন, ক্যান্ডিড ছবিগুলো দারুণ তুলেছো, উনি দেখলে তোমাকে পার্সোনাল ফটোগ্রাফার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ফেলবেন!

নিশা বললো, কই দেখি! মনে মনে বললো, এই প্যাকেটটাই তকিবের হাতে পড়া লাগলো!

–কি বলেছি শুনেছো, মাস্টারি বাদ দিয়ে তোমার নতুন চাকরি হবে!

নিশা আস্তে করে বললো, উনি কখনোই আমাকে নিয়োগ দিবেন না, উনি আমাকে একদমই পছন্দ করেন না।আমি যেখানে থাকি, উনি তার উল্টোদিকে হাঁটেন।
যদি দিতেন…

-বিড়বিড় করে কি বলছো নিশা? জোরে বলো! বোঝা যাচ্ছে না তো!

নিশা বললো, কিছু না! তকিব ভাই আপনাকে একটা গল্প করবো, এক রাজকন্যা আর এক মাস্তান ছেলের গল্প।

-আজই বলে ফেলো;

-হ্যা বলছি, প্রায় নয় বছর আগের কথা, একটা মফস্বল শহরে একটা ফুটফুটে মেয়ে থাকতো, মিষ্টি দেখতে, বেণী দুলিয়ে স্কুলে যেত। এই মেয়েটি তখন টিনএজার, আবেগে ভেসে যাওয়ার বয়স, গেলোও ভেসে। সে প্রেমে পড়লো এলাকার এক বখাটে ধরণের মাস্তান ছেলের৷ রাজনৈতিক নেতার ডানহাত, উষ্কখুষ্ক চেহারায় ঘুরে বেড়ায় বাইকে চড়ে।
কিন্তু তার রোদচশমায় ঢাকা চোখে ছিলো এক রাজ্যের মায়া!

সেই ছেলেটা একবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পলাতক হয়, একটা নির্জন বাড়িতে।
মিষ্টি মেয়েটি সেই ছেলেটির কাছে গিয়ে হাজির হয় একদিন।
নিরিবিলি বাড়িতে ভালোবাসার মানুষকে একলা পেয়ে ছেলেটির ভেসে যাওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু সে ভেসে যায়নি, ভেসে গেলো মেয়েটি। খুব কাছকাছি চলে গেলো সে, সেই মুহুর্তে ছেলেটি মেয়েটির হাত ধরে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলো।

কিন্তু মেয়েটির তৃষ্ণা কমলো না। সে একদিন ওই ছেলেটির বাড়িতে গিয়ে হাজির হলো, তাকে বিয়ে করতে বলে।

সেদিনও ছেলেটি তাকে হাত ধরে ফিরিয়ে দিয়ে গেলো।কারণ সেদিন মেয়েটি বুঝতে না পারলেও আজ বোঝে, সেদিন যদি বিয়েটা হতো, তাহলে আজ মেয়েটি নিশাত সামরিন ম্যাম হতে পারতো না আর ছেলেটিও আসিফ জুবায়ের হতে পারতো না!

তকিব অবাক হয়ে দেখলো নিশা কাঁদছে। নিশা এভাবে কাঁদছে কেন, কিসের এতো কষ্ট ওর। তকিব তো নিশার এই কষ্ট কখনো স্পর্শ করতে পারবে না! নিশা এখনো আসিফ সাহেবকেই ভালোবাসে, এই ভালোবাসার মধ্যেও তকিব ঢুকতে পারবে না।
তকিব বুদ্ধিমান ছেলে, তাই যেটুকু বোঝার, সে বুঝে নিলো।

★★★

নিশার বাবা প্রফেসর সাহেবকে এমপি সাহেব সালাম দিয়েছেন। নিশার বাবা ঠিক বুঝতে পারছেন না, তার সাথে এমপি সাহেবের কি এমন জরুরি কাজ যে গাড়ি পর্যন্ত পাঠিয়ে দিয়েছেন।

তিনি এমপি সাহেবের ঘরে ঢোকার পরে, এমপি সাহেব তাকে হাত ধরে বসালেন।হালকা আলাপের পর, এমপি সাহেব বললেন, প্রফেসর সাহেব আপনার কাছে একটা কিছু চাইবো আর সেটা আপনাকে দিতেই হবে।

নিশার বাবা বুঝতে পারছেন না, তার কাছে এই মানুষটা কি চাইতে পারে।

এমপি সাহেব বললেন, আমার একটা ছেলে আছে, আমি তার জন্য আপনার মেয়েটাকে চাই!

নিশার বাবা এমপি সাহেবের ছেলে কে বুঝতে পারলেন না। তিনি জানেন তার মতো এমপি সাহেবেরও দুই মেয়ে।

তিনি উৎসাহী চোখে তাকালেন।

এমপি সাহেব বললেন, আমার ছেলেটাকে আপনি চেনেন, আপনাদেরই ছাত্র, আসিফ, আসিফ জুবায়ের।

নিশার বাবা হঠাৎ আট বছর পিছনে চলে গেলেন, তার মনে পড়লো, নিশা আসিফের হাত ধরে ছিলো, আসিফ জোর করে নিশাকে বাড়ির গেটে ঢুকিয়ে শার্টের হাতায় চোখ মুছে চলে গিয়েছিলো।

এতবছর ধরে কি ছেলেটা অপেক্ষা করেছে? নিশাও তো বিয়ে করতে চায়নি এতদিন। এই দিন কয়েক আগে নিশার মা জানিয়েছে, নিশা তকিবকে বিয়ে করতে হ্যা বলেছে। সেই প্রেক্ষিতে কিছু কথাও এগিয়েছে। নিশা তো তাকে কিছু বলেনি!

আসিফকে তিনি চেনেন, এতদিনে একবারো কোন অভদ্রতা চোখে পড়েনি তার। নিশাকে যে সময়ে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন, তখনকার পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি আলাদা সম্পূর্ণভাবে।

নিশার বাবা বললেন, নিশার তো ওর কলিগের সাথে বিয়ের কথা এগিয়েছে একটু, ওর সাথে কথা না বলে আমি কিভাবে আপনাকে কথা দেই এমপি সাহেব।

এমপি সাহেব বললেন, আপনি কথা বলুন প্রফেসর সাহেব। আমি শুধু বলতে পারি, এই ছেলেটা সোনার টুকরা ছেলে, আমি চেয়েছিলাম ওকে আমার পরিবারে রাখতে। কিন্তু ও রাজী হলো না। অনেক জিজ্ঞেস করার পরে ও আমাকে আপনার মেয়ের কথা বলেছে।

নিশার বাবা মাথা নাড়লেন।

বাসায় ফিরে তিনি নিশাকে ডাকলেন তার ঘরে। নিশা ঢুকলো। তিনি নিশাকে বললেন, নিশামনি, এমপি সাহেব আমাকে ডেকেছিলেন তোমার বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে, আসিফ ছেলেটার সাথে। তোমার কিছু বলার আছে??

নিশা নিজেকে সামলাতে না পেরে বাবার বুকে গিয়ে কাঁদতে লাগলো! নিশার বাবা বললেন, আমাকে একবার বলতে পারতে, তাহলে তকিবকে জড়াতাম না। এখন ওকে কি বলবো বলতো!

নিশা ফোপাঁতে ফোপাঁতেই উত্তর দিলো, তকিব ভাইকে আমি বলে দিয়েছি বাবা। উনি আর বিয়ের কথা বলবেন না।

নিশা কাঁদতেই লাগলো। নিশার বাবা মনে মনে বললেন, অনেক দিন আগেও তোকে কাঁদতে দেখেছিলাম, সেদিন আমার হাতে কিছুই ছিলো না। পরিস্থিতিও ছিলো না।আজ যখন সব কিছু তোর পক্ষে, তাহলে তোর ইচ্ছেই পূরণ হোক মা।
দোয়া করি ভালো থাক! সুখে থাক। এতদিনের জমানো ভালোবাসা একসাথে তোর পায়ে লুটোপুটি খেয়ে পড়ুক।

আজ আসিফ নিশার বিয়ে। প্রোগ্রামের খাওয়া দাওয়া অতিথি আপ্যায়ন করতে করতে রাত হয়েছে অনেক। আসিফ মনে মনে অস্থির হয়ে আছে, কখন নিশার কাছে যেতে পারবে, কিন্তু মুখে গাম্ভীর্য ধরে রেখে আশেপাশের সব এলাকার রাজনৈতিক নেতা, দলের ছোট ভাই, কর্মী এবং ইউএনও সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নিশার কলেজের কলিগ, প্রিন্সিপাল স্যার মোটকথা সবাই গুরুত্বপূর্ণ অতিথি।

আসিফ নিজেই সবাইকে সমাদর করেছে। যদিও আসিফ বড় কোন আয়োজন করতে চায়নি। নিশার বাবাকে বলেছে, স্যার তেমন আয়োজন করতে চাইনা। খুব সাধারণ ভাবে নিশাকে নিয়ে যেতে চাই। এমপি সাহেবের উপস্থিতিতে কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে আকদ আর কাবিন করা হয়েছে।

তারপরই আসিফের ভাই বোনেরা নিশাকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু অনুষ্ঠান, দাওয়াত আয়োজন করেছেন এমপি সাহেব।
আসিফ না করতে পারেনি। তিনি বলেছেন, আজকে তোমার বাবা যদি অনুষ্ঠান করতেন, তুমি কি নিষেধ করতে?
তাই আসিফের বাসায়ই বড় করে বৌভাত আয়োজন করা হয়েছে।

নিশা অনেকক্ষণ ধরে একাই বসে আছে। খুব বেশি মেকাপ করেনি আজও, কিন্তু বউ সেজেছে মনের মতো করে।
আজকে কেমন ভোঁতা একটা অনুভূতি। বুক কাঁপতে কাঁপতে একসময় থেমে গিয়েছে।
সই করতে অবশ্য হাত কাঁপেনি।নিজের নামের সাথে আসিফের নামটা দেখার অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না।

এই ঘরে তেমন কোন আসবাবপত্র নেই, একটা ড্রেসিং টেবিল বোধহয় নতুন আনা হয়েছে।
একটা আলমারি আর টেবিল, বিছানার পাশেই।
পুরো বিছানা রজনীগন্ধা ফুলে সাজানো হয়েছে। মিষ্টি একটা সুবাস পুরো রুম জুড়ে।

নিশা খেয়াল করেছে, ড্রেসিং টেবিলের উপরে একটা কাচের বাটিতে বেলিফুলের মালা রাখা, এতো বেলি ফুল এই সিজনে কোথায় পেলো! এখানে তো ফুলের দোকান নেই তেমন!

আসিফের বোধহয় আসতে দেরী হবে, নেতা বলে কথা! আজ বিয়ে করেছে, আজ তো বউকে একটু গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ নাকি, নিশার রাগ হয়।

আসিফ তখনই ঘরে ঢুকলো। আসিফের অফহোয়াইট পাঞ্জাবীটা নিশা নিজেই পছন্দ করে আনিয়েছে। খুব মানিয়েছে তাকে। বিয়ে করতে এসেছে নাকি সভায় ভাষণ দিতে এসেছে সেটাই বোঝা যাচ্ছিলো না!

আসিফ নিশার কাছে না গিয়ে আলমারি খুললো, একটা প্যাকেট বের করে নিয়ে রুমের আলো কমিয়ে দিলো। তারপর বেলিফুলের মালা ভর্তি কাচের বাটিটা সাথে নিয়ে নিশার সামনে এলো।

নিশার কি নামতে হবে এবার? সালাম করতে হয় নাকি, নিয়ম। নিশার এবার লজ্জা লাগছিলো, ও নেমে সালাম করতে যেতেই আসিফ ধরে ফেললো।
ওকে বিছানায় বসিয়ে নিজে মেঝেতে বসে পড়লো।
নিশা, আজ ফর্মালি কিছু কোরো না, আজ আমাকে বাঁধাও দিও না প্লিজ। আজকের রাতটা আমাকে ছেড়ে দাও!

নিশা কথা বলতে পারলো না, কি করতে চায় সে, সবাই যা করে সেটাই তো নাকি! এতো ঢং করছে কেন, আশ্চর্য!
নিশাও তো অনেক তৃষ্ণা নিয়ে বসে আছে আসিফের জন্য। আসিফের মতো এমন সুপুরুষ নিশার চোখে আর কেউ নেই।

আসিফ এবার উঠলো, নিশার খুব কাছে গিয়ে ওর মাথার ওড়নার পিন খুলে ফেললো, এরপর আস্তে করে কানের দুল, টিকলি, হার সব খুলে নিশাকে নিরাভরণ করে ফেললো। ফিসফিস করে বললো, আমাকে বাঁধা দিও না নিশা, এরপর সব চাইতে অদ্ভুত কাজটা করলো আসিফ। নিশাকে নিজের হাতে নিরাবরণ করে লাল টুকটুকে একটা একরঙা শাড়ি নিজেই পরিয়ে দিলো। আসিফের স্পর্শে শিউরে ওঠে নিশা, কিন্তু আসিফ যেন খেয়ালই করলো না। নিশা শাড়ির রঙের সাথে মিশে লজ্জায় লাল হয়ে যেতে লাগলো , আসিফ নেশাগ্রস্তের মতো নিশার গলায় বেলিফুলের মালাটা পড়িয়ে দিলো। নিশার নরম চুলগুলো খোঁপা করে বেলি ফুলে খোঁপা জড়িয়ে দিলো আসিফ।

এতক্ষণে যেন সম্বিত ফিরলো আসিফের। নিশার অনাবৃত ঘাড়ে শুধুই আঁচল টানা। আঁচল সরিয়ে প্রথম চুমুটা খেলো আসিফ। নিরাভরণ কানে চুমু খেলো গভীর করে।নিশার শরীর জেগে উঠেছে, রক্তে ঝড় শুরু হয়েছে। আসিফ এখনো এত শান্ত কি করে!!

নিশার হাত ধরে আসিফ বললো, এসো!! ওয়াশরুমে ঢুকে শাওয়ার ছেড়ে দিলো আসিফ। পানির ফোঁটা ছিটলো নিশার চোখে মুখে,
নিশাকে কি অপূর্ব লাগছে, মনে হচ্ছে মর্ত্যের মাটিতে কোন উর্বশী নেমে এসেছে। এবারে আসিফ নিশাকে জড়িয়ে নিলো বুকে। এতক্ষণ ধৈর্য্য ধরা বুঝি মুনি ঝষির পক্ষেও অসম্ভব! নিশাকে বুকে নিয়ে বুনো আদরে ভাসিয়ে দিতে লাগলো আসিফ।
এই আসিফ ভীষণ অচেনা নিশার কাছে, নিশা একবার ফিসফিস করে বললো, আমি মরে যাচ্ছি, আসিফ!
আমি…..
কথা শেষ করার আগেই নিজের ঠোঁট দিয়ে নিশার মুখ বন্ধ করে দিলো আসিফ।

তারপর রাত বাড়লো, আর সেই সাথে রাত্রি দ্বিপ্রহরে ওদের গল্পটাও শুরু হলো নতুন অধ্যায়ে।

 

★★★

নিশার ঘুম ভাঙলো খুব সকালে, আসিফ তখনো ঘুমাচ্ছে।
নিশা ফ্রেশ হয়ে এসে জানালার পর্দাটা সরিয়ে দিচ্ছিলো, আসিফ চোখ মেলে নিশাকে বললো, পর্দা টানা থাক নিশা, রোদ আসছে, তুমি কাছে এসো। নিশা লাজুক চোখে
ধীরু পায়ে এগিয়ে যায়। এতদিন নিশা আসিফকে ভালোবেসে পাগলামি করেছে। আসিফ কখনো ভালোবাসা প্রকাশ করেনি! গতরাত থেকে আসিফ ভালোবেসে যাচ্ছে নিশাকে। প্রতিবারই নতুন শব্দে, নতুন ছন্দে।

জানালা দিয়ে রোদ চিঠি পাঠায় ওদের। ওরা একই সাথে সে চিঠি ছুঁয়ে দেয়। ভালো থাকুক সেই রোদ পাঠানো চিঠির দল। ভালো থাকুক সব ভালোবাসারা।।

………[শেষ]

 

শানজানা আলম
 

লেখালেখির অভ্যাস বাবার কাছ থেকে পাওয়া। তিনি গল্প বলেন, নিজের চারপাশের কথাগুলোই লিখে দৃশ্যমান করার চেষ্টা চলে অবিরাম। প্রফেসর বাবা এবং স্কুল শিক্ষিকা মায়ের বড় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে। শানজানা আলমের লেখার সবচেয়ে ভালোদিক হচ্ছে তার গল্প বলার সহজ সাবলীল ভঙ্গি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন সময় কাটে লেখালেখি নিয়ে। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ "চন্দ্রাহত" "নিশীথ রাতের বাদল ধারা" ‘রূপকথা নয়’ ইতিমধ্যেই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

Click Here to Leave a Comment Below 20 comments