মাধবীলজে এক সন্ধ্যায়

 

শহরের শেষ মাথায় একটা সাদা বাড়ি আছে, মাধবীলজ। ঠিক শেষ মাথায় নয়, আরো কিছুটা দূরে। বাড়িটার চারপাশটা উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সামনে থেকে দোতালার ঝুল বারান্দাটা স্পষ্ট দেখা যায় । নদী খুব বেশি দূরে নয় এখান থেকে।

জায়গাটা ছবির মত সুন্দর। মানুষ বিকেলে ঘুরতে যায় ওইদিকে। বাড়ির সামনে দিয়ে হেটে নদী পর্যন্ত যাওয়া যায়। আবার সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসে সবাই।
তো যা বলছিলাম, কলিগদের কাছে শুনেছি, ওই বাড়িতে থাকেন শ্রীমতী মাধবীলতা দেবী আর তার বিশ্বস্ত এক ভৃত্য। মাধবীলতা দেবী বেশ বয়স্ক। শুনেছি তার স্বামী বিলেতে গিয়েছিলেন রিসার্চ করতে,পরে সেখানেই দেহত্যাগ করেন।
মাধবীলতা দেবী সবসময় সাদা ছাপা শাড়ি পরেন, ফুলহাতা ব্লাউজ দিয়ে। বাড়ির দোতলার ঝুল বারান্দায় তিনি দাঁড়ান মাঝে মাঝে। তবে এ বাড়িতে সাধারণ মানুষের কোন আসা যাওয়া নেই। সচারচর কেউ আসে না এ বাড়িতে।
একসময় নাকি এ বাড়িতে জমজমাট চায়ের আড্ডা জমতো। এখন বিকেলে ওইদিকে ঘুরতে গেলে মাঝে মাঝে দেখা যায়, মাধবীলতা দেবী শুন্যে তাকিয়ে আছেন।

বাড়িটার প্রতি আমার একটা অদ্ভুত আগ্রহ তৈরি হয়। লেখালেখির প্রয়োজনে আমি অনেক জায়গায় গিয়েছি বারবার। রহস্যময় পরিবেশ থেকে গল্প নিয়ে এসেছি।বাড়িটা দেখেই আমার
মনে হল এই বাড়ির প্রতি ইঞ্চিতে গল্প লুকিয়ে আছে, শুধু তাকে বের করে আনার অপেক্ষা।

এই শহরে আমি একেবারেই নতুন। স্থানীয় শ্রী মোহিনী মোহন মহাবিদ্যালয়ে রাজনীতি বিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে জয়েন করেছি অল্প কিছুদিন হল। কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের থাকার জন্য তৈরি করা বাংলোতে উঠেছি। এখনো ঠিক গুছিয়ে উঠতে পারিনি।

সংগত কারনেই শহরটির নাম উল্লেখ করছি না। জেলা শহরের কাছাকাছি হওয়ায় নাগরিক জীবনের সমস্ত সুযোগ সুবিধাই এ শহরে বিদ্যমান।শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে শহরটি বেশ এগিয়ে। লাল ইটের বিশাল শিল্পকলা ভবনটি দেখলেই বোঝা যায় ।

কলেজে আমার এখনো ভাল করে ক্লাশ নেয়া হয়নি। নতুন শিক্ষা বর্ষে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হলে হয়ত আমার ক্লাশ রেগুলার শুরু হবে। এখন প্রতিদিন কলেজের বিভিন্ন বিভাগ গুলো ঘুরে দেখি, সহকর্মীদের সাথে আলাপ করি, পরিচিত হই। এ কদিনে দেখলাম কলেজের বিভিন্ন বিভাগগুলো অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরনে সমৃদ্ধ ।
দুপুরের মধ্যেই আমার কলেজের কাজ শেষ হয়ে যায় । তারপরের সময়টা আমার কিছু করার থাকে না। তাই প্রতিদিন বিকেলেই আমি শহরে হাঁটতে বের হই।এখন বৃষ্টির সময়, প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি থাকে । আমি বর্ষাতি গায়ে জড়িয়েই বের হই প্রতিদিন।

তো যা বলছিলাম, একদিন বিকেলে সাদা বাড়িটির সামনে দিয়ে হাটছিলাম। সকালে ভীষণ
বৃষ্টি হয়েছে, বাতাস ছিল বেশ ঠাণ্ডা । নদীর সাইড থেকে শীতল হাওয়া ভেসে আসছিলো।
গায়ে রেইনকোট জড়িয়ে আমি সামনে এগুচ্ছিলাম। বৃষ্টির হয়েছে বলে পথ ঘাট বেশ ভেজা ছিল। লম্বা লম্বা কয়েকটা গাছ দেখে চিনতে পারলাম না ঠিক । অচেনা গাছ গুলোর ভেজা কালো শরীর দেখে মনে হল যেন এইমাত্র নদী থেকে স্নান সেরে উঠল ।পাতা গুলো ভিজে চকচক করছে। এই গাছগুলো অনেকটা দেবদারু গাছের মত দেখতে।

মাধবীলজের সামনে এসে দেখলাম মাধবীলতা দেবী দাঁড়িয়ে আছেন বারান্দায়। আমি ভাল করে খেয়াল করে দেখলাম, মাধবীলতা দেবীর বয়স পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হতে পারে, কিংবা আরও বেশি। সাদা ছাপা শাড়ি, ফুল হাতা ব্লাউজ দিয়ে পরেছেন, সব সময়ের মতো।
আজ সাদা মোটা স্কার্ফে চুলগুলো ঢেকে রেখেছেন।

আমি বেশ অনেকটা সময় তাকিয়ে ছিলাম বলে আমার সাথে শ্রীমতী মাধবীলতা দেবীর চোখাচোখি হলো । তিনি মিষ্টি করে হাসলেন।উত্তরে আমিও হাসলাম। আমি মাধবী লজ অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলাম । পিছন থেকে আমাকে কেউ একজন ডাকলো , মহাশয়, একটু দাঁড়ান ।
আমি পিছন ফিরে দেখলাম বাড়িটা থেকে একজন লম্বা মত ব্যক্তি বের হয়েছেন।
তিনিই আমাকে ডাকছেন । প্রায় ছয় ফুট লম্বা, চোখ গুলি ছোট ছোট , তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি কিছুই আন্দাজ করতে পারলাম না। আমাকে ডেকে বললেন , আজ সন্ধ্যায় মাধবী লজে চা চক্রের আয়োজন আছে। শহরের গন্যমান্য সব ব্যক্তি, শিক্ষক, ডাক্তার সবাই আসবেন। আপনি সেখানে নিমন্ত্রিত ।
আমি খুবই আনন্দিত বোধ করলাম। কত দিনের ইচ্ছে মাধবী লজের ভিতরে ঢুকে একটু ঘুরে দেখবো । আজ হুট করেই সে সুযোগ পেয়ে গেলাম।
লম্বা লোকটি আমাকে জানালো, সন্ধ্যার পরপরই সবাই এসে পড়বে । অগত্যা আমি বেশি দেরি না করে বাংলোতে ফিরে গেলাম। বাবুর্চিকে বললাম স্নানের জন্য গরম জল দিতে।
গরম জলে স্নান সেরে,গায়ে বর্ষাতি, পায়ে পাম্প শু পরে, রওনা হলাম মাধবী লজে।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে বেশ কিছুক্ষণ। দিনের বেলায় এখানে বেশ লোকজন চলাচল করলেও সন্ধ্যার পরে পথঘাট বেশ নিরিবিলিই মনে হলো ।

মাধবী লজের বাইরে থেকে বোঝা গেল না ভিতরে অতিথিরা এসেছেন কিনা। আমি দেখলাম গেট বন্ধ আছে,কলিংবেল নেই। দু বার নক করতেই গেট খুলে গেল কিন্তু ভিতরে কাউকে দেখলাম না। আঙিনা পেরিয়ে একটা লম্বা করিডোর । তারপরেই ড্রয়িং রুম। করিডোরে কোন আলো নেই। একটু ভয় ভয় অস্বস্তি লাগছিলো । আমি বেশ লম্বালম্বি উঁচু দরজাটা ঠেলে ভিতরে ঢুকলাম। দরজা ঠেলে ভিতরে যেতেই অন্য রূপ দেখলাম ।
চারপাশ আলোয় ঝলমল করছে। বেশ উঁচু ছাদ বেয়ে নেমে এসেছে কয়েকটা ঝাড়বাতি ।লম্বা হল ঘরের মত ড্রয়িংরুমের আসবাবপত্র যথেষ্ট অভিজাত । কিছু জিনিসপত্র আমার এদেশীয় বলে মনে হল না। বুঝলাম মাধবীলতা দেবী বেশ সৌখিন, রুচিশীল এবং বিত্তবান। বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় শো পিস এবং তৈলচিত্র দিয়ে পুরো ঘরটি সাজিয়েছেন।

চারপাশে বেশ কিছু লোকজন নিজেরা গল্প করছে, চায়ের পেয়ালা হাতে। মাধবীলতা দেবীকে এমনিতে দূর থেকে বয়স্ক মনে হলেও এখন অতোটা বয়স্ক লাগছে না। অফ হোয়াইট মসলিনের শাড়িতে খুবই অভিজাত দেখতে লাগছে। দেখলাম তিনি চা পরিবেশন করছেন ধব্ধবে সাদা পেয়ালায়। আমাকে দেখে হাস্লেন তিনি।সেই লম্বা লোকটিকে কোথাও দেখলাম না। মাধবীলতা দেবী আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন দুয়েক জনের সাথে, ইনি মোহিনী মোহন কলেজের নতুন প্রভাষক । আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আমাকে চেনেন? তিনি উত্তর না দিয়ে আবারও হাসলেন ।

একজন লম্বা মতো, গৌর বর্ণের , সফেদ চুল আর সুঠাম দেহের অধিকারী ব্যক্তি আমাকে বললেন, আমি কর্নেল আজগর, অবশ্য এখন অবসরপ্রাপ্ত, সব দায়িত্ব থেকে অবসর নিয়েছি অনেকদিন হল। আমি জানালাম, আলাপ হয়ে ভাল লাগলো ।

একজন ইংলিশ ক্যাপ মাথায় দেয়া ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, তিনি ডক্টর গোমজ। এখানকার মিশনারি হসপিটাল এর চিকিৎসক ছিলেন। এখন অবসরে আছেন। তবে আমার কোন ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন হলে তিনি করতে পারেন।

এখানকার বেশিরভাগ অতিথিই রিটায়ার্ড পারসন মনে হল ।

তবে আরও দুজন ইয়াং আর্মি অফিসার, ক্যাপ্টেন শাহেদ আর লেফটেন্যান্ট তাওসিফ এর সাথে পরিচয় হল ।

টেবিলের কর্নারে বসে চা খাচ্ছিলেন কালো কোট পরা একজন ভদ্রলোক । কথায় কথায় শুনলাম, তিনি জেলা সদর কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ছিলেন। তবে প্র্যাকটিস ছেড়েছেন কয়েক বছর হয়েছে।

একজন ব্যক্তি ইজি চেয়ারে আধ শোয়া হয়ে পেপার পড়ছিলেন, মাধবীলতা দেবীকে তিনি ডেকে ব্লাক কফি দিতে বললেন।
মাধবিলতা দেবী ডক্টর গোমজ এর সাথে গল্প করছিলেন, উঠে গিয়ে বেয়ারাকে ব্লাক কফি দিয়ে আসতে বললেন । ডক্টর হেসে বললেন, দেখেছো , শ্রীমান অশ্বিনী মহোদয় এখনো আমাকে হিংসা করে । তোমাকে আমার সাথে গল্প করতে দেখেই ডেকে নিয়ে গেল ।

কথাটা আমার একটু কানে লাগলো । শুনেছিলাম অশ্বিনী বাবু মানে মাধবীলতা দেবীর স্বামি ফিরে আসেননি বিলেত থেকে, তাহলে ইনি কে?
আমি এক কাপ কফি নিলাম, এই ঠাণ্ডায় কফিই ভাল, ফায়ার প্লেসের সামনে দাড়িয়ে কফি খাচ্ছিলাম। বাইরে হু হু করে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে ।
একজন প্রফেসরকে নিয়ে এলেন মাধবীলতা দেবী । আলাপ করিয়ে দিলেন, ইনি প্রফেসর দেব দুলাল লাহিড়ী , প্রাক্তন অধ্যাপক।
নামটা পরিচিত মনে হল । কোথায় যেন শুনেছি। আমার বিষয় জিজ্ঞেস করে তিনি জানলেন, আমি রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষক । তিনি বললেন, আমার সাবজেক্ট ইতিহাস , কলেজে বিভাগীয় প্রধান ছিলাম । আমার তখনি মনে হল ইতিহাস বিভাগে প্রফেসর দেব দুলাল লাহিড়ীর ছবি দেখেছি, কিন্তু যতদূর শুনেছি , তিনি তো ………
মিলাতে পারলাম না।
প্রফেসর লাহিড়ী বললেন, কোথায় উঠেছেন আপনি? কলেজ লাগোয়া বাংলোতে ?
বললাম, জি, আপাতত ওখানেই আছি । পরে শহরে বাসা খুজে উঠে যাব ।
আরও কিছু কথা হল প্রফেসরের সাথে। ইতিহাসের প্রফেসর হলেও সাম্প্রতিক রাজনীতি সম্পর্কে তার ধারনা বেশ পরিস্কার। তিনি কথা বলছিলেন আশির দশকের শেষ দিকের বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের বিষয়ে তিনি যেভাবে কথা বললেন, মনে হল ভাঙনটা অবশ্যম্ভাবী ,সেটা তিনি ভালোই জানতেন ।

কথায় কথায় রাত বাড়ছিল , এমন সময় বাইরে ঝড়বৃষ্টি শুরু হল । বৃষ্টি তো ছিলই , দমকা বাতাস ও শুরু হল । প্রফেসর বললেন , এই আবহাওয়ায় শহরে ফেরা কঠিন হবে। আজ মাধবী লজেই থেকে যেতে হয় কিনা , কে জানে ।

এ সময় জোরে বাজ পড়লো । সাথে সাথে ইলেকট্রিসিটি ও চলে গেল । হুট করে ইলেকট্রিসিটি চলে যাওয়ায় সব কেমন চুপচাপ হয়ে গেল । আমি ভাবছিলাম এমন জলসায় কেন আলোর ব্যবস্থা নেই। বাইরে ঝড়বৃষ্টি বাড়ছে । খুব কাছাকাছি কোথাও এত জোরে বাজ পড়লো যে আমার মনে হল আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলছি।

তারপর আর কিছু মনে নেই।

যখন জ্ঞান ফিরলো ,তখন আমি আমার বাংলোর বিছানায় শোয়া । আমার মাথার কাছে বাংলোর বুড়ো কেয়ারটেকার বসে আছে । তার কাছে শুনলাম , আমি গতরাতে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে শহরের শেষ দিকে রাস্তার পাশে পরে ছিলাম । দুজন পথচারী আমাকে দেখতে পেয়ে বাংলোতে পৌঁছে দেয় । পকেটে কলেজের আইডি কার্ড দেখে এখানে নিয়ে এসেছে । রাতে ডক্টরও এসেছিল, তেমন সমস্যা নেই দেখে রেস্ট নেয়ার জন্য ইনজেকশন পুশ করে ঘুম পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছেন।
আমি বললাম , সেটা কিভাবে সম্ভব, আমি তো মাধবী লজে চা চক্রের নিমন্ত্রনে ছিলাম। দুপুরে বাংলোতে ফিরে বাবুর্চির করে দেয়া গরম জলে স্নান সেরে রেডি হয়ে বের হয়েছিলাম। পথের পাশে কিভাবে গেলাম, সেখানে ডক্টর গোমজ , কর্নেল আজগর , প্রফেসর দেব দুলাল লাহিরি, এডভোকেট সাহেব, আর্মি জুনিয়র অফিসার দের সাথে আলাপ হল ।
বাবুর্চি আমার পাশে ছিল, তিনি বললেন, সে কি স্যার , আপনি তো কাল দুপুরে যে বের হলেন, তারপর আর বাংলোতে ফেরেনই নি। আমি তো আপনার জন্য অপেক্ষা করে সন্ধ্যার পরে ঘরে চলে যাই। আপনি এলেন ই বা কখন আর আমি গরম জল ই বা কখন করে দিলাম ।
আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না, ওরা আমার ভেজা পোশাক বদলে দিয়েছিল, বারান্দায় তাকিয়ে দেখলাম, আমার ভেজা পোশাক গতকাল সকালে পরিহিত সবুজ শার্ট কাল প্যান্ট ঝুলছে।

বাংলোর কেয়ার টেকার আমাকে বলল , স্যার আপনি সম্ভবত স্বপ্নে দেখেছেন। তাছাড়া যাদের কথা বলছেন, তারা সবাই এই এলাকার গণ্য মান্য ব্যক্তি ছিলেন একসময় । কিন্তু এখন আর তারা কেউ জীবিত নেই । বছর বিশেক আগেই মারা গিয়েছেন সবাই । তবে এরা সবাই মাধবী লজের নিয়মিত অতিথি ছিলেন ।আশ্বিনি বাবু ছিলেন নামকরা গবেষক । তিনি সবাইকে চায়ের নিমন্ত্রনে ডাকতেন । তিনি মারা যান বিলেতে বসে । তার মৃত্যুর পর এমন আড্ডা আর হয়নি ওখানে । যাদের কথা বলছেন, সবাই একে একে মারা গিয়েছেন । ডক্টর গোমজ , প্রফেসর ,এডভোকেট একে একে সবাই স্বাভাবিক ভাবেই মারা গিয়েছেন । আর্মি জুনিয়র অফিসার দুজন ও মারা গিয়েছেন, শান্তি রক্ষা মিশনে গিয়ে । এই শহরের সবাই গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের এই চা চক্রের কথা জানতো সে সময়ে ।

আমি কিছুক্ষন নির্বাক হয়ে রইলাম , কিছুই বলতে পারলাম না।
শুধু জানতে চাইলাম , মাধবীলতা দেবী কোথায় থাকেন এখন ?কেয়ার টেকার উত্তর দিলো , সেটাই তো আশ্চর্য জনক বিষয় , মাধবীলতা দেবী ও বাড়ীতেই ছিলেন এতদিন । গতকাল রাতে তিনি বার্ধক্য জনিত কারণে দেহত্যাগ করেছেন ।
আমি কিছুসময় চুপ করে বসে রইলাম । তবে কী শেষ সময়ে মাধবী দেবী আর একবার চা চক্রের আয়োজন করেছিলেন??
নাকি চলে যাওয়া অতিথিরা তাকে শেষবারের মত নিতে এসেছিলেন ?

কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়না কখনো…
অজানাই থেকে যায় ।

শানজানা আলম
 

লেখালেখির অভ্যাস বাবার কাছ থেকে পাওয়া। তিনি গল্প বলেন, নিজের চারপাশের কথাগুলোই লিখে দৃশ্যমান করার চেষ্টা চলে অবিরাম। প্রফেসর বাবা এবং স্কুল শিক্ষিকা মায়ের বড় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে। শানজানা আলমের লেখার সবচেয়ে ভালোদিক হচ্ছে তার গল্প বলার সহজ সাবলীল ভঙ্গি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন সময় কাটে লেখালেখি নিয়ে। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ "চন্দ্রাহত" "নিশীথ রাতের বাদল ধারা" ‘রূপকথা নয়’ ইতিমধ্যেই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

Click Here to Leave a Comment Below 0 comments