5

বৃষ্টি নামার আগে- পর্ব ৩

 

বাসায় ফিরে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। ইপ্তির বই জোগাড় করা গেছে, ইপ্তি কয়েকবার করে ধন্যবাদ দিয়ে এসেছে ইশিতাকে। ইপ্তির ধন্যবাদের বহরে শাফির ভীষণ হাসি পেয়েছে, মেয়েটা বুঝতেই পারছে না কি মহান সাহিত্য সে পড়তে চলেছে!!

আজ অষ্টমী তিথি, বড়পূজার দিন। আকাশ মেঘলা ছিলো বলে বেশ ভ্যাপসা গরম ছিলো। রাতে বৃষ্টি হবে নিশ্চিত।
দূরের মন্ডপ থেকে ঢাকের আওয়াজ ভেসে আসছে। সাথে হিন্দিগানের আওয়াজও চড়া।

শাফির মা মুখ থমথমে করে আছেন, দুপুর থেকে। শাফিকে কয়েকবার নিষেধ করার পরেও শাফি ইপ্তিকে নিয়ে ঘুরতে গেছে। তিনি নিজেই দেখেছেন শাফি হাসতে হাসতে ইপ্তির সাথে কথা বলছে, বিষয়টা তার ভালো লাগছে না একদম।
শাফিকে ত্যাড়াব্যাকা কথাও শুনিয়ে দিয়েছেন কয়েকটা।

সারা রাতে খাবার সময় বললো, ইপ্তি আজ রাতে আমরা ছাদের ঘরে থাকবো, বৃষ্টি শুরু হলেই যাবো। রাতে বৃষ্টি দেখতে খুব ভালো লাগবে তোমার। ইপ্তি ঘাড় নেড়ে হ্যা বললো, শাফি ছিলো না তখন। আজ সারাদিন দোকানে যায়নি বলে বিকেলে ফিরেই চলে গেছে, আসতে আসতে মাঝরাত।

বৃষ্টি শুরু হলো কিছুক্ষণ পরেই, সারা ইপ্তিকে নিয়ে ছাদের ঘরে চলে এলো। দুজন কতক্ষণ জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখলো, অনেকক্ষণ গল্প করলো, তারপর সারা ঘুমিয়ে গেলো।

ইপ্তি কতক্ষণ বইটা পড়ার চেষ্টা করলো। কি অদ্ভুত গল্প, একটা গল্প, প্রচ্ছদে একটা গোলাপফুলের ছবি দেওয়া।কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরে রগরগে প্রেমের বিস্তারিত আলোচনা। ছেলেটি মেয়েটিকে ভালোবাসে বলে তাকে একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে চুমু খেলো, চুমু খেতে খেতে মেয়েটির জামা খোলার বর্ননা।
ইপ্তি কান ঝিম ঝিম করতে লাগলো, কি অদ্ভুত, এই বই মানুষ পড়ে কি করে। পেছনে লেখকের একটা সানগ্লাস পরা ছবি দেওয়া, এক হাত দিয়ে চুল ঠিক করছে।

ইপ্তি বইটা আর পড়তে পারলো না। রেখে দিলো তখন ইলেক্ট্রিসিটিও চলে গেলো। ইপ্তিরও একসময় চোখ লেগে এলো।

ঘুম ভেঙে গেলো মাঝরাতে, বাইরে ঝম ঝম বৃষ্টি হচ্ছে। শাফি ফিরেছে অনেক রাতে প্রায় বারোটা বেজে গিয়েছে। দোকানে পরোটা খেয়েছে বলে আর ডিনার করলো না। বৃষ্টি হচ্ছে দেখে ছাদে চলে এলো। ছাদের ঘরে ওরা ঘুমাচ্ছিলো খেয়াল করেনি। ছাতা রেখে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়ালো। ঘামিয়েছিলো অনেক, একবারে বৃষ্টিতে ধুয়ে গেলে ভালো লাগবে।

ইপ্তি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলো শাফি নদীর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। ইপ্তি উঠে পা টিপে পাশে এসে দাঁড়ালো।
-আপনি একা একা ভিজছেন?

শাফি প্রচন্ড চমকে গিয়ে নিজেকে সামলে নিলো৷ ইপ্তিও ভিজে গেছে।

-তুমি মাঝরাতে ছাদে এসেছো কেন? ভয় লাগে না?

-না, আমরা তো এঘরেই ঘুমিয়েছি আজ! আপনি জানতেন না?

-না,

-কখন ফিরেছেন?

-একটু আগেই, তোমার ঠান্ডা লাগবে, ভেতরে যাও!

-সমস্যা নেই, আমার অভ্যাস আছে।

আসলে ইপ্তির যেতে ইচ্ছে করছে না।

-আপনি যে ভয়ের কথা বললেন আপনার ভয় লাগে না?

-না আমার কি ভয়? অবশ্য সবাই বলে মাঝরাতে জ্বীন পরী আসে,

-তা আসতেও পারে, পরী! আপনি মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর!

শাফি হেসে ফেললো। ইপ্তির সাথে কথা বলতে খুব ভালো লাগে।

-হ্যা, তবে আজকের আগে কোন পরী আসেনি।

-আজকে এসেছে!!

-এই যে দাঁড়িয়ে আছে, ইপ্তিকে দেখালো শাফি!!

-মাই গড, আপনি আমাকে ভূত বললেন!!

-না ভূত কেন বলবো, পরী বলেছি, তুমি তো পরীর মতোই!!

ইপ্তি হেসে ফেললো। শাফির মনটা হালকা হয়ে গেলো।

-কি করছিলে, ঘুমাওনি?

-ওই বইটা পড়ার চেষ্টা করছিলাম!

-কেমন লাগলো, পড়া হলো!!

-নাহ, ওভার রেটিং করেছে আপনার ফিয়াসে।

শাফি মনে মনে হাসলো, ইশিতা আবার করবে রেটিং!!

শাফি বুঝতে পেরেও জিজ্ঞেস করলো কি আছে বইয়ে? টপিক কি?

-টপিক কিভাবে চুমু খেতে খেতে জামা খোলার চেষ্টা করা যায়!!!

শাফি লজ্জা পেয়ে গেলো, আশা করেনি ইপ্তি সরাসরি এমন কিছু বলবে!

বিষয়টা এড়াতে বললো, ইপ্তি একটা কাজ করবে?

-হ্যা বলুন?

-জানালার পাশে একটা দিয়াশলাই আর সিগারেটের প্যাকেট আছে, একটু এনে দিবে?

-বৃষ্টির মধ্যে স্মোক করবেন? আপনি চেইন স্মোকার!!

-হ্যা, কিছুটা সেরকমই।

-ওয়েট, ইপ্তি এনে দিলো।

-আচ্ছা এখানে একটা ছবি দেখলাম আপনার বুকশেলফে, ভীষণ সুন্দর একজন, লাল টিপ পরা, কে উনি?

-আমার মা!

-হায় হায় আন্টির ছবি আর আমি চিনতে পারিনি। তখন আন্টির মুখটা লম্বাটে ছিলো, এখন গোল হয়ে গেছে!!

– না তোমার এই আন্টি না। আমার মা! আসলে বিষয়টা তোমার জানার কথা না। আমার এই মা আসলে আমার স্টেপ মাদার। আমার মা আমার ছোটবেলায় মারা গেছেন।

-ওহ, সরি আমি তো জানতাম না।

-না সরির কিছু নেই, এটা তুমি কিভাবে জানবে। ইপ্তি ভেতরে যাও, ঠান্ডা লাগবে, আমার মাথায় ছাতা আছে, তুমি একদম ভিজে গেছো।

-ওকে! আচ্ছা আপনার মায়ের কি হয়েছিলো?

-শুনেছি ডায়রিয়া। আমি অনেক ছোট ছিলাম, মা তখন এখানে থেকে পড়তেন, আমার মা আর এই মা দুই কাজিন। মায়ের মৃত্যুর পরে আমার দেখাশোনার জন্য বাবা তাকে বিয়ে করেন।

-আই সি!

ওহ মাই গড, প্রচন্ড ভয় পেয়ে ইপ্তি শাফির কাছে চলে আসে।

শাফি চমকে সিগারেট ফেলে দিলো, কি হয়েছে ইপ্তি?

-কেউ একজন কালো কাপড় পরা গেট থেকে ঢুকেছে, আমার দিকে তাকালো! শাফি ইপ্তির দিকে তাকানো ছিলো বলে দেখতে পায়নি!!

কে, দাঁড়াও নিচ থেকে দেখে আসি!!

না না, আমি সত্যি দেখেছি, ইপ্তি কাঁপছে, আপনাকে যেতে দিবো না, শাফির হাত চেপে ধরলো!!!

শাফি ইপ্তির হাত ধরে বললো, বর্ষায় হ্যালুসিনেট করেছো, ভয় পেও না, কিচ্ছু না, আমি আছি তো।

এটুকু কথায় ইপ্তি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো। শাফি মিনিট দশেক ইপ্তির হাত ধরে দাঁড়িয়ে থেকে ওকে রুমে দিয়ে এলো। বললো, চেইঞ্জ করে ঘুমাও, ভয় পেও না। কিচ্ছু ছিলো না।

ইপ্তির তখন অন্যরকম লাগছে, শাফি আরেকটু সময় ধরে থাকতো যদি!!

শাফি চলে গেলো। ইপ্তি বিষয়টা ভাবতে লাগলো, ও ভুল দেখেনি, কেউ একজন তো এসেছেই। সত্যিই ইপ্তি ভুল দেখেনি। ওদের একসাথে ছাদে আরো একজন নিচ থেকে দেখে নিয়েছে, শাফি দেখার আগেই আড়াল হয়ে গেছে।

 

####

ফজরের আযানের পর পরই ঘুম ভেঙে গেলো শাফির। নামাজের পরে মনে হলো সকাল হচ্ছে, সারা আর ইপ্তিকে নিয়ে নদীর পাড়ে গেলে ওদের ভালো লাগতো, আসার পথে জেলে নৌকা থেকে জ্যান্তমাছও কিনে নিয়ে আসা যাবে। যদিও আলো স্পষ্ট হয়নি, শাফি সারাকে ফোন করলো। সারার ঘুম ভাঙলো না, নতুন জায়গা বলে ইপ্তির ভালো ঘুম হচ্ছে না। ওর ঘুম ভেঙে গেলো। ভাইব্রেট করছে কোথায় খুঁজতে গিয়ে সারার ফোনটা পাওয়া গেলো।

বড় ভাইয়া ফোন করছে, ইপ্তি সারাকে কয়েক বার ডাকলো কিন্তু সারা উঠলো না। পরে ইপ্তি রিসিভ করে ফেললো।

-সারা ইপ্তি উঠেছে? ওকে নিয়ে নিচে চলে আয়, নদীর পাড় থেকে হেঁটে আসবো।

-সারা ওঠেনি, আমি ইপ্তি।

-ওহ আচ্ছা, তুমি ঘুমাওনি?

-ঘুমিয়েছি ছাড়া ছাড়া, ভালো ঘুম হয়নি।

-নতুন জায়গা বলে সম্ভবত।

-হতে পারে। কি যেন বলছিলেন, কোথায় যাবেন?

-সারা তো ওঠেনি, তুমি যাবে?

-যাবো কিন্তু আমার ড্রেস চেইঞ্জ করতে হবে, দোতলায় সারার ঘরে আমার ব্যাগ। সিঁড়ি তো অন্ধকার।

-আচ্ছা আমি আসছি।

আলুথালু বেশে ভীষণ আদুরে লাগছিলো ইপ্তিকে। শাফি চোখ নামিয়ে নিলো। ইপ্তিকে সারার ঘরে পৌছে দিলো শাফি।

ইপ্তি দ্রুত তৈরি হয়ে বের হলো। শাফির পাশে হাঁটতে লাগলো।

-রাতে ভয় পাচ্ছিলে?

-না একটু অস্বস্তি হয় আর কি!

-তেমন কিছুই না, ভুল দেখেছো।

-হতে পারে

একটু থেমে ইপ্তি জিজ্ঞেস করলো আপনার বিয়ে ডিসেম্বরে?

একটু উদাসীন ভাবে শাফি বললো, জি জানি!

কিছু মনে না করলে আমি একটা কথা বলতে চাই,

বলো,

মেয়েটা ঠিক আপনার পারফেক্ট ম্যাচ না। পারফেক্ট মানে সারা আর সোহাইল ভাইয়ের মতো।

সোহাইল কে?

হায় হায়, আপনি চেনেন না, তাহলে তো ভুল হয়ে গেলো, আপনি প্লিজ সারাকে জিজ্ঞেস করবেন না ওদের হয়তো কোন প্ল্যান আছে।

আচ্ছা, জিজ্ঞেস করবো না, তুমি তো বলো?

সারার বিএফ সোহাইল ভাই, আমাদের সিনিয়র, ভিষণ ভালো ডিবেট করে, ডিবেট ক্লাবের প্রেসিডেন্ট।

ওহ আচ্ছা, তোমার বিএফ নেই?

নাহ, তেমন কেউ নেই।

এমবিবিএস পাশ করার পরে কি করবে?

জানি না, তেমন প্ল্যান করা নেই, আচ্ছা আপনিও তো ডাক্তার হয়ে যেতেন? মন খারাপ হয় না?

নাহ, এখন আর হয় না। আমার ভাগ্যে নেই। অবশ্য আমি ব্যবসা করি বেশ ইনজয় করে।

হুম, বুঝেছি, আচ্ছা আপনার মায়ের কথা মনে পরে না?

শাফি খেয়াল করলো, অন্য কেউ এই বিষয়ে কথা বললে ওর রাগ হতো কিন্তু ইপ্তির উপর রাগ হচ্ছে না বরং শেয়ার করতে ভালো লাগছে।

-মায়ের কথা আমার তেমন মনে নেই, মায়ের সব স্মৃতি বাবা সরিয়ে ফেলেন আমি যাতে মাকে ভুলে নতুন মাকে মা বলে মেনে নিই। সেটাই হয়েছে, মায়ের ছবি আমি বড় হয়ে পেয়েছি। শুধু মনে পরে মা খুব হাসতো।মায়ের চোখও হাসতো।গালে টোল ছিলো।

-আপনিও খুব সুন্দর করে হাসেন, একদম অন্যরকম, আপনার চোখও হাসে।

শাফি ভীষণ অবাক হয়ে ইপ্তির দিকে তাকালো। ইপ্তি ওকে এতো খেয়াল করেছে, আশ্চর্য!!

 

####

বেশ খানিকটা হাঁটার পরে একটা ছোট্ট নৌকা দেখা গেলো। শাফি নেমে গিয়ে দেখলো চিংড়ি মাছ আছে কিনা। মাঝি বললো, ভাই কিছু মিছু হাচড়া আছে, নিয়া যান।

ইপ্তি নেমে এসেছে, ও জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা হাচড়া কি?

হাচড়া মানে পাঁচ মিশাইল মাছ!!

ইশ, কত কিছু যে চিনি না!

মাছগুলো বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলে শাফি উপরে উঠলো। লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরা একদল হিন্দু বৌ কোথাও যাচ্ছে বোধহয়, কপালে টানা করে চন্দন তিলক দেওয়া।
ইপ্তি ফিরে দেখলো।

শাফি বললো, এই শাড়িগুলো আমার শপের।

বাহ, আপনার মনে আছে!! কোন কোন শাড়ি আপনার শপে আছে?

না তা নয়, আমি এগুলো পূজার জন্য এনেছিলাম। খুব পপুলার হয়েছে। প্রায় ৭০/৮০ পিস বিক্রি হয়েছে।

খুব ভালো, আমি শাড়ি পরি না, পরলে আমিও একটা নিতাম।

পরো না কেন, পরলে ভালো লাগবে তোমাকে।

আসলে মাও কম পরে, আমারও এতো ফ্যাসিনেশন নেই, বিয়ের প্রোগ্রাম থাকলে মায়ের ডিজাইনার কালেকশন থেকে পড়ি৷ ইপ্তি ফোন থেকে ছবি বের করে দেখালো, ভারী সাজের একটা ছবি। ইপ্তিকে অন্যরকম লাগছে।

তোমাকে চেনা যাচ্ছে না!

হ্যা, ড্রিমস থেকে সেজেছিলাম, কাজিনের বিয়ে ছিলো।

শাফি মনে মনে ভাবলো, ইপ্তির জগত একদম আলাদা, শাফির ইপ্তিকে ভালো লাগলেও এখানে ইপ্তি কখনো আসবে না শাফির কাছে, তাই মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই।

ইপ্তি, চলো ফেরা যাক।

আচ্ছা, চলুন।

ইপ্তি বাড়ির গেটে ঢুকতেই শাফি বললো, এসো পা ধুয়ে যাও। বাড়ির সামনে চাপকল থেকে শাফি পানি তুলে দিলো। ইপ্তি পা ধুয়ে নিলো। পুরোটা সময় ইপ্তির মনটা একটা অদ্ভুত ভালোলাগায় ভরে থাকলো। বাড়ি ফিরতে ফিরতে বেশ কিছু দেরী হয়ে গেলো। সবাই নাস্তার টেবিলে বসে পড়েছে।

নাস্তার টেবিলে তেমন কথা হলো না। খাওয়া শুধু শেষ করে সারার মা সারাকে বললেন, মেয়ে দেখা শেষ, আজকে ঢাকা যাও। শাফি দুইটা টিকিট করিস নাইট কোচে!

আজকে কেন মা, পরশু সকালে যাবো।

-পড়াশোনা নাই তোমার, বাড়িতে বইসা থাকবা—-রেগে গেলে মা তুমি করে বলে। মেডিকেলে পড়া এত্তো সোজা না।

-আমার পড়া আমি বুঝবো।

শাফি বললো, আজকেই কেন যাবে, পরশু যাইতে চাইতেছে পরশু যাক।

শাফির মা উত্তর দিলেন না। একটু চুপ করে থেকে বললেন , আইজকে তিনটা থ্রিপিস পাঠাবি ইশিতাকে, ফজলুরে দিয়া। সাথে মিষ্টি। দামি হয় যেন।

এখনি থ্রিপিস দেওয়া লাগবে কেন? আর একটা পাঠাও, তিনটা কেন?

শাফির মা উত্তর দিলেন না আবারও। টেবিলেই বললেন, মার্কেটের যে কাজ আছে উকিলের সাথে, কবে করতে চাও?

শাফি বললো, আগে শুভর পড়া শেষ হোক, তারপর।

শুভ সারার নিজের ভাই, মেজ ভাইয়া।

সারার মা গজগজ করতে লাগলেন, রান্নাঘরে, আমার কপাল, স্বামী সব কিছু বড় ছেলেরে লিখা দিয়া চোখ বুঝছে, এখন এগুলা আমার দেখা লাগে!!

কাজ করতে করতে বুয়া বললো, শাফি ভাইজানে তো সবই চালায়, আপনে গজর গজর করেন ক্যান!

শাফির মা অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে তাকালেন। শাফির বাবা মার্কেটটা সব শাফির নামে করেছেন। শাফির মা চান তার নিজের ছেলে শুভকে শাফি একটা তলা লিখে দিক। জমিজমাগুলো তার নিজের নামে ইসলামি আইনে ভাগ হবে। শাফির কপাল, মামা বাড়ি থেকেও মায়ের ভাগের পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছে। তার নিজের ভাইবোন অনেক, তাই তেমন কিছু পাননি।

শাফির মা তার বড়খালার মেয়ে। তার বাপের বাড়ির অবস্থা ভালো ছিলো না বলে তাকে এ বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। আল্লাহর কি ইচ্ছা, নিয়ে আসার বছরখানেকের মধ্যেই বুবু মারা গেলো, সবাই তাকে ধরে শাফির আব্বার সাথে বিয়ে দিয়ে দিলো।
শাফি কত্ত ছোট তখন!

দোকানে গিয়ে শাফি দোকানের কর্মচারী মোতালেব ভাইকে বললো, চওড়া লাল পাড়ের দুইটা সাদা শাড়ি আলাদা করে রাখতে। শাফি দোকান থেকে বের হয়ে কাঁচের লাল চুড়ি কিনলো, আলতা কিনলো, টিপও কিনলো। সবই দুইসেট।সারাকে একা দিলে খারাপ দেখায়।

কিনতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো, সে কি সারার জন্য কিনছে??? না তো! সারার জন্য এতো কিছু কেনা হয়নি কখনো। এগুলো আসলে সে ইপ্তিকে দিতে চায়। তাই সারার অজুহাত দাঁড় করিয়েছে নিজের কাছে।

কি হয়েছে শাফির, ইপ্তিকে এতো আপন লাগছে কেন!!

 

বৃষ্টি নামার আগে- পর্ব ৪

শানজানা আলম
 

লেখালেখির অভ্যাস বাবার কাছ থেকে পাওয়া। তিনি গল্প বলেন, নিজের চারপাশের কথাগুলোই লিখে দৃশ্যমান করার চেষ্টা চলে অবিরাম। প্রফেসর বাবা এবং স্কুল শিক্ষিকা মায়ের বড় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে। শানজানা আলমের লেখার সবচেয়ে ভালোদিক হচ্ছে তার গল্প বলার সহজ সাবলীল ভঙ্গি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন সময় কাটে লেখালেখি নিয়ে। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ "চন্দ্রাহত" "নিশীথ রাতের বাদল ধারা" ‘রূপকথা নয়’ ইতিমধ্যেই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

Click Here to Leave a Comment Below 5 comments