7

বৃষ্টি নামার আগে- পর্ব ২

 

সেয়াই পিঠা বানানোর পদ্ধতিটা ইপ্তির খুব পছন্দ হলো, সে চেয়ারে বসে কতক্ষণ কল ঘোরালো, কিন্তু বিষয়টা এতোটা সহজ না। তাই একটু পরে হাল ছেড়ে উঠে খাওয়ায় মন দিলো। দুজন চালের আটা দলাই মলাই করে মথে দিচ্ছে, একজন রেডি আটা কলে ঢুকিয়ে কল ঘোরাচ্ছে।

মাংসটা কেমন ঝাল ঝাল, একটা অন্যরকম ফ্লেবার আছে- সারাকে প্রশ্ন করলো ইপ্তি।

হ্যা, এতে একটা মশলা দেওয়া হয়েছে, চইঝাল। তাই এমন ফ্লেবার।

ইয়েস, এটা আমি অনলাইনে দেখেছি, বাট প্রথম টেস্ট করলাম।

শাফি এসে ডাইনিংএ বসলো। একটা বড় স্টীলের প্লেটে শাফিকে মাংস আর পিঠা দেওয়া হলো।
শাফি কথা না বলে চুপচাপ খেতে লাগলো।

ইপ্তির খেতে ভালো লাগলেও বেশি খেতে পারলো না। এটা সকালও না দুপুরও না, বারোটা বাজছে।
এই অসময়ে সাধারণত খাওয়ার অভ্যাস নেই।

-সারা, ইপ্তিকে নিয়ে ঘুরে আয়, নতুন রাস্তা করেছে, ওর দেখতে ভালো লাগবে। -শাফি বললো খেতে খেতে।

-আজ না ভাইয়া, কাল পরশু যাবো, আমার টায়ার্ড লাগছে।

-ইপ্তি বোর ফিল করবে!

-না না, একদম না।

-তুমি আমার সাথে যেতে পারো। বাজারে আমাদের শপ, মার্কেট দেখলে, তারপর বড় রাস্তা ঘুরে চলে আসবে।

-ওকে, ইপ্তি সংক্ষিপ্ত আকারে উত্তর দিলো।

সারা শাফির মা সায়েরা বেগম, তিনি বিষয়টা পছন্দ করলেন না। ইপ্তি আর সারা চলে গেলো উঠে, তারপর তিনি শাফিকে বললেন, তোর বিয়ার কথা চলে, এখন এই মাইয়ারে নিয়া একলা যাওয়ার দরকার নাই, কেডা না কেডা কি বলবে, হুদাই একটা ভেজাল।

-আম্মা কি যে বলো, কেডা আবার কি বলবে!

তবুও শাফির আম্মা পছন্দ করলেন না দেখে শাফি বিকেলে আর বাইরে যাওয়ার কথা তুললো না। ইপ্তিও ঘুমিয়েছিলো, ওকে আর ডাকলো না কেউ।

পরদিন মহিষপুরে যাওয়ার কথা। মেয়ের বাড়ি সারার মামা বাড়ির পাশে, মামা বাড়িতে মেয়েকে নিয়ে তার গার্জেন আসবে, দেখাও হবে, টুকটাক কথাও হবে।

ইপ্তি যেতে চাইছিলো না, তাও সারা বুঝিয়ে নিয়ে চললো।
শাফিও যেতে চাইছিলো না। শাফিকে মা জোর করে যেতে বললেন। ইপ্তি একটা বিষয় খেয়াল করলো, শাফির উপরে মায়ের জোর খুব বেশি।

-আমার ফেরার সময় নৌকা দিয়ে ফিরতে পারি না ভাইয়া?

শাফিকে জিজ্ঞেস করলো সারা।

-আচ্ছা দেখি।

অটোতে বসার জায়গা হচ্ছিলো না। শাফির ফুপুআম্মা, রেনু খালা, মা, সারা, ইপ্তি সবাই যাবে। শাফি বললো, আচ্ছা, সারাকে আমি বাইকে নিয়ে যাই, তাহলেই তো হয়।

-ভাইয়া আমাকে না, তুই ইপ্তিকে নিয়ে যায়, ইপ্তির একটু ঘোরাও হবে।

সারার মা আবারও বিরক্ত হলেন৷ তার ছেলে মেয়ে দুইটাই আস্ত বলদ, কোন সাধারণ জ্ঞান নাই, এখন মানুষ দেখলে কি বলবে।

তিনি কিছু বলার আগেই দেখলেন ইপ্তি শাফির কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তার সামনে দিয়ে শাফির পেছনে বসে ইপ্তি চলে গেলো।
তিনি রেগে বললেন, সারা ইপ্তিকে শাফির সাথে পাঠালি ক্যান, তোর জ্ঞান বুদ্ধি নাই?

সারা বললো, মেয়েটাকে আমি আগ বাড়িয়ে নিয়ে আসছি, দুইটা দিন থাকবে, এমন করো ক্যান, জানো ও কত বড়লোকের মেয়ে!! তুমি তো আন্টির সাথে ভালো করেই কথা বললে!

-সেইটা তো সমস্যা না, এই বয়েসী একটা মেয়ে নিয়ে শাফিকে ঘুরতে দেখলে কথা ছড়াবে, এমনিতেই বানী বাবু ওর পিছনে লাইগা আছে, সবাই শাফিরে ভোটে দাঁড়াইতে বলছিলো, শাফি গরজ করে নাই।

সারা কথা বাড়ালো না, একটা শুভ কাজে যাচ্ছে। এতো তর্ক করতে ভালো লাগে না।

বাইকে বসে ইপ্তি আরাম পাচ্ছিলো না। কখনো বসেনি আগে। শাফি বাইক থামিয়ে বললো, তোমার সমস্যা হচ্ছে?

হ্যা মানে বসতে পারছি না।

আচ্ছা, আমার কাঁধে হাত দিয়ে বসো, কোন সমস্যা নেই।

ইপ্তি কাঁধে হাত না দিয়ে পেছন থেকে ধরে বসলো শাফিকে। শাফির একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো, মেয়েটাকে কেমন যেন অন্যরকম ভালো লাগছে, একটু চাইল্ডিশ, তবে মনে হয় অনভ্যস্ততার জন্য এমন। ওর পরিবেশে হয়তো এমন না।

পুরো পথে আর কথা হলো না। বাতাসে কথা শোনা যায় না। তবু শাফির মনে হতে লাগলো, সত্যি পথটা যদি শেষ না হতো!

বুকের মধ্যে একটা চাপা কষ্ট লুকিয়ে রাখে শাফি, কখনো কাউকে বলতে পারেনি। শুধু নিজের দায়িত্বগুলো পালন করেছে ঠিকঠাক। ইপ্তিকে দেখার পরে মনে হচ্ছে, সত্যি পাশে যদি কেউ থাকতো, তাকে সব কথা বলা যেতো, তার সাথে গল্প করতে ভালো লাগতো।

কিন্তু ইপ্তি সেই মেয়ে না। ইপ্তি হঠাৎ আসা একটা দমকা হাওয়া, শীতল হওয়া যায় সহজে, কিন্তু অনুভূতির রেশ অনেক সময় থেকে যাবে।

অটোর বেশ কিছু আগে শাফি পৌছে যায়। মামা বাড়ির আগে বাইক থামিয়ে বলে, ইপ্তি ওরা আসুক তারপর যাই ভেতরে।

ইপ্তি ঘাড় নেড়ে জিজ্ঞেস করে কতক্ষণ লাগবে ওদের আসতে?

শাফি একটা সিগারেট ধরায়! একটা টান দিয়ে দু আঙুলের ফাঁকে ধরে বলে, চলে আসবে এখনি।

ইপ্তির শাফিকে দেখে ভীষণ অন্যরকম একটা অনুভূতি হতে শুরু করলো। এই অনুভূতিটা একটু অচেনা। যেন শাফির আরেকটু কাছে যেতে ইচ্ছে করছে বা কথা বলতে ইচ্ছে করছে। শাফি ভাইয়ার ভেতরে কিছু একটা বিষয় আছে যেটা অন্য কোন ছেলের মধ্যে ইপ্তি দেখতে পায়নি কখনো। কেমন অন্যমনস্কভাবে সিগারেট ফুঁকছে, যেন কিছু চিন্তা করছে।

ইপ্তি কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো, আন্টি আপনার বিষয়ে একটু পসেসিভ, তাই না?

শাফি হেসে বললো, হ্যা একটু। তারপর একটু থেমে বললো, কেন এমন মনে হলো তোমার?
ইপ্তি বললো, এমনিতেই, না এমনিতেই ঠিক না, আপনি আমাকে নিয়ে বাজারের শপ দেখাতে যেতে চাইলেন, আন্টি না করলো, সেটা শুনে ফেলেছি।

শাফি একটু লজ্জা পেয়ে বললো, আসলে এটা মফস্বলও না গ্রাম এলাকা তো, তাই।

-না না, ইটস ওকে, আন্টি ঠিকই বলেছেন, ইপ্তি হেসে বললো।

শাফির মনে হলো মেয়েটা ভীষণ সোজা, খোলা মনের। এমন মানুষদের মনে জটিলতা থাকে না। সাদা মনের মানুষ হয়।

এরমধ্যেই সারাদের অটো চলে এলো। শাফি সিগারেট ফেলে দিলো। সারা অটো থেকে নেমে খেয়াল করলো ভাইয়া খুব আগ্রহ করে ইপ্তির সাথে কথা বলছে।
কেন যেন সারার ওদের দেখতে খুব ভালো লাগলো পরক্ষণেই মনে হলো, কোথায় ইপ্তি আর কোথায় ভাইয়া, দুজনের যোগাযোগের কোন সেতু নেই আর ভাইয়ার কয়েকদিন পরেই বিয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পরে শাফি ভাইয়া যখন মেডিকেল ছেড়ে এসে দোকানে বসা শুরু করলো, তখন থেকে ও অনেক চুপচাপ হয়ে গেছে, সব কাজ করে, দায়িত্ব পালন করে কিন্তু কারো সাথে তেমন কথা বলে না প্রাণ খুলে।

সবাই একসাথে সারার মামাবাড়ি ঢুকলো। যে মেয়েটির সাথে বিয়ে তার নাম ইশিতা। ইশিতাকে নিয়ে ইশিতার বাবা, মামা, আর একটা মামাতো বোন এসেছে সারার মামার বাড়িতে। ইনফর্মাল বেড়াতে আসার মতো, দেখা হবে, কথাবার্তা হবে আর কি। মুরব্বিরা নিজেদের মধ্যে কথা বললেন, ইশিতাকে শাফির আম্মা একটা চেইনও পরিয়ে দিলেন।

কেউ একজন প্রস্তাব দিলো, ছেলেমেয়েরা নিজেরা একটু কথা বলে নিক।
ইশিতার সাথে তার বোন আর শাফির সাথে সারা আর ইপ্তি বের হলো সামনে পুকুরপাড়ে বসার জন্য।

শাফি তেমন কোন কথা বললো না, তবে সারা টুকটাক কথা বলে হালকা করতে চেষ্টা করলো পরিবেশটা।
ইপ্তি সারার সাথে যোগ দিলো।

মেয়েটার বেশ লম্বা আর ফর্সা। চেহারা সাধারণ হলেও গ্রোথ বেশ ভালো বলে স্থানীয় ভাবে বিয়ের উপযুক্ত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।

ইশিতাও কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছিলো। শাফি কেন যেন কোন আগ্রহ বোধ করছে না। এর চাইতে ইপ্তিকে দেখে গতকাল একটা কেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো।

সারা জিজ্ঞেস করলো, পরীক্ষা তো সামনে, তারপর কি করবে?

ইশিতা বললো, বাড়িতেই থাকবো।

-অনার্সে ভর্তি হতে চাও কোথায়? আমাদের বাড়ি থেকে পিরোজপুর বাগেরহাট দুদিকই কাছে।

-পিরোজপুরে হইতে পারি।

-হুম, বুঝতে পারছি।

-আপনি অবসর সময়ে কি করেন? -ইপ্তি জিজ্ঞেস করলো।

-কিছু না, ফেসবুক চালাই, টিভি দেখি, ইউটুবে গান শুনি।
মুবি দেখি।

-আচ্ছা। বেশ ভালো। বই পড়েন না? শাফি ভাইয়ার অনেক বই আছে।

-পড়ি বইও পড়ি।

-খুব ভালো, আপনার প্রিয় লেখক কে?

– জি একটা বই পড়ছি নির্ঝর চৌধুরীর।

ইপ্তি একটু দমে গেলো, এই লেখক কে, ইপ্তি তো চেনে না।

-কি বই পড়েছেন? আমি তার কোন বই পড়িনি তো তাই জিজ্ঞেস করছি।

-হৃদয়ের কাছাকাছি তুমি আমি, খুব সুন্দর গল্প।
আমার বাটডেতে ফ্রেন্ট দিছে।

– বাটডে!!

সারা আস্তে বললো, বার্থডে।

-ওহ আচ্ছা পড়তে হবে, মিস করে গিয়েছি। সারা তুমি পড়েছো?- ইপ্তি জিজ্ঞেস করলো সারাকে

সারা ঘাড় নাড়লো, সে পড়েনি। শাফি বিষয়টা বুঝতে পারলো, কোন লেখক আর কি বই হতে পারে। তাই মনে মনে হাসলো।

-সারাও পড়েনি, আপনার কাছে কি বইটা আছে, আমি একটু পড়ে দেখতে পারি? আপনি মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের বই পড়েছেন নিশ্চয়ই, উনি আমার প্রিয় লেখক।
আমি স্যারের অটোগ্রাফ প্রতিবছরই নেওয়ার চেষ্টা করি

ইশিতা কি বলবে বুঝতে পারলো না।
শাফি সারার দিকে তাকালো, সারা বুঝতে পারলো। তবে একটু ভুল হলো। সারা বললো, ইপ্তি চলো আমরা হেঁটে আসি। ভাইয়া কথা বলুক।

শাফি সাথে সাথে বললো, না না, তোরা থাক, ইপ্তি এসো তোমাকে সামনের বড় রাস্তাটা দেখিয়ে আনি।

ইপ্তি উঠে হাঁটা দিলো, ওর মধ্যে জটিলতা কম। সারা মনে মনে ভাবলো, মা দেখলেই চিল্লাবে আবার। তাই শাফিকে ডাকলো, ভাইয়া!!

শাফি পেছন ফিরে বললো, তুই গল্প কর ওদের সাথে।

ইপ্তি বললো, আচ্ছা আপনি কি আমাকে বইটা দিতে পারবেন, আমি একটু পড়ে দেখতাম।

ইশিতা ওর কাজিনকে পাঠিয়ে দিলো বাসা থেকে বইটা আনতে।

শাফি একটা ভ্যান থামলো, সামনে বড় রাস্তা, ওদিকে ঘুরে চলে আসবে

কতদূর রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকান দেখে শাফি ভ্যান থামাতে বলো। জায়গাটা মহিষপুর বাজার থেকে বেশ কিছুটা দূরে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের বড় রাস্তা হয়েছে ধানক্ষেতের মাঝখানে, তাই দু’পাশেই সবুজ ধানক্ষেত। ধানগাছ মাত্র লাগানো হয়েছে, বাতাস হলে মনে হয় সবুজ রঙের ঢেউ। ইপ্তি আগে কখনো এতো কাছ থেকে ধানক্ষেত দেখেনি, তাই ওর চোখ জুড়িয়ে গেলো।

ইপ্তি, চা খাবে? এসো চা খাই?- শাফি ডাকলো

আমি আসলে অসময়ে চা খাই না- ইপ্তি উত্তর দিলো।

সব সময়ে রুটিন বাঁধা জীবনে কেন চলতে হবে, রোজদিন তো তুমি ঘুরতেও বের হও না তাই না? – শাফি সুন্দর করে বললো।

ইপ্তির মনে হলো, প্রকৃতি মাঝে মাঝে কিছু অবিচার করে, যেমন করেছে শাফি ভাইয়ের সাথে। এত সুন্দর করে যে কথা বলে সে হবে ইউনিভার্সিটির লেকচারার বা কলোজের প্রফেসর। কিন্তু সেটা হয়নি, যদিও সব স্বাভাবিক থাকলে শাফি ভাই হয়ত ডাক্তার হয়ে যেতেন।

ইপ্তি মনে মনে একটা নিঃশ্বাস ফেললো। এখানে আসার পরে ওর কোন একটা সমস্যা হয়েছে, সমস্যাটা সাধারণ সমস্যা না, বেশ জটিল সমস্যা৷ এই সমস্যার কোন সমাধান নেই, শুধু কষ্ট বাড়বে।

ইপ্তি শাফির দিকে চায়ের দোকানে এগিয়ে গেলো।

দোকানে একটা গান বাজছে,
মার্কা যদি হয় তোমার টুকটুকে লাল ঠোঁট
একাই আমি দিতে পারি ষোল কোটি ভোট।

ইপ্তি খেয়াল করে শাফির দিকে তাকিয়ে বললো, কেমন এ্যাবসার্ড কথা, মার্কা কেন ঠোঁট হবে, কোন নির্বাচনে হিউম্যান বডির কোন অংশ তো সাইন হয় না। আমি তো দেখিনি, একবার ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আলমারি, কড়াই মার্কা হয়েছিলো বলে খুব সমালোচনা হয়েছিলো৷ ঠোঁট কিভাবে মার্কা হবে , আর একা কিভাবে ষোলকোটি ভোট দিবে, একটার বেশি ভোট দেওয়া তো অপরাধ, জাল ভোটও এতো দেওয়া সম্ভব না।
কথায় কোন বাস্তবতা নেই!!

শাফি হাসতে লাগলো, ইপ্তি আবারও কেমন দ্বিধায় পরে গেলো, এত সুন্দর করে কিভাবে হাসে মানুষ। শাফির মুখের সাথে চোখও হাসছে, সব ছেলেদের চোখ হাসে না। শুধুমাত্র বিশেষ কিছু মানুষ চোখ দিয়ে হাসতে পারে। যারা চোখ দিয়ে হাসে, তাদের আশেপাশের মানুষের কোন দুঃখ থাকে না। সবসময় হাসিটা ঘিরে থাকে।

-ইপ্তি তোমার মধ্যে ফার্মের মুরগী ভাবটা আছে, জানো তো?

-ইশ, একটা সত্যি কথা বললাম বলে আমাকে ফার্মের মুরগী বলছেন?

-হুম, তুমি মনে হয় বাইরে তেমন মেশোনি বা বাইরে গিয়েছো খুব কম, তাই না?

-হ্যা সেটা ঠিক, আমার মেলামেশার গন্ডি মা সীমিত করে রেখেছেন, তার সাথে গানের কথার বা ফার্মের মুরগীর কি সম্পর্ক?

-এই গানটায় মেলানো হয়েছে ঠোঁট আর ভোট, এর টার্গেট শ্রোতা এই চায়ের দোকানের নিয়মিত কাস্টমার, তুমি না। বুঝতে পেরেছো?
এমন অনেক ভালো বা সুশীল গানও আছে, ধরো পাখিরে তুই দূরে থাকলে, একটা গান আছে না সুবীর নন্দীর, এখানে পাখি বলতে তার প্রিয়জনকে বোঝানো হয়েছে, তুমি যদি এখন ভাবো, একটা পাখি উড়ে গেলো বলে এতো আহা উহু কেন, সেটা তো হবে না!!
এখানে সস্তা ধরনের কথা বলে তোমার কানে লাগবে আর ওটা সুশীল গান বলে তোমার ভালো লাগবে এটা একটু কেমন না??

শাফি হাসতে হাসতেই বললো কথাটা।

শাফির মুখের দিকে তাকিয়ে ইপ্তির কেমন একটা বিষন্ন অনুভূতি হলো, বুকের কোথাও ভীষণ ফাঁকা লাগতে লাগলো।

 

বৃষ্টি নামার আগে- পর্ব ৩

শানজানা আলম
 

লেখালেখির অভ্যাস বাবার কাছ থেকে পাওয়া। তিনি গল্প বলেন, নিজের চারপাশের কথাগুলোই লিখে দৃশ্যমান করার চেষ্টা চলে অবিরাম। প্রফেসর বাবা এবং স্কুল শিক্ষিকা মায়ের বড় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে। শানজানা আলমের লেখার সবচেয়ে ভালোদিক হচ্ছে তার গল্প বলার সহজ সাবলীল ভঙ্গি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন সময় কাটে লেখালেখি নিয়ে। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ "চন্দ্রাহত" "নিশীথ রাতের বাদল ধারা" ‘রূপকথা নয়’ ইতিমধ্যেই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

Click Here to Leave a Comment Below 7 comments