বৃষ্টি নামার আগে -পর্ব ১

 

সারা, তুমি এবার সিলেট ট্যুরে যাচ্ছো না? মিটিং আছে ক্যাফেটেরিয়ায়, চলো যাই? -ল্যাব থেকে বের হতে হতে ইপ্তি সারাকে জিজ্ঞেস করছিলো।

না, আমি যেতে পারবো না, আমাকে বাড়িতে যেতে হবে- সারা সাধারণ ভাবে উত্তর দিলো।

ওহ, আচ্ছা, আগের ট্যুরে কনভেনার তুমি ছিলে, খুব আনন্দ হয়েছিলো।

সারা হেসে বললো, হ্যা, সেন্টমার্টিন ট্যুরটা জোশ ছিলো, বলো!

ইপ্তি ঘাড় নেড়ে সায় দিলো।

ওরা দুজনেই একটা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে থার্ডইয়ারে পড়ছে। সামনে পুজোর ছুটি।এই ছুটিতে সবাই ঠিক করেছে, বিছানাকান্দি আর রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ঘুরে আসবে। এজন্যই মিটিং ডেকেছে। সারা খুবই উচ্ছ্বল, চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে। ইপ্তি খুব চুপচাপ শান্ত । ওদের ক্যাম্পাস ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে। ইপ্তি ঢাকার মেয়ে, ঢাকায়ই বড় হয়েছে। বাবা বেশ বড় কর্মকর্তা।

সারা এসেছে মফস্বল শহর থেকে। ওদের বাসা জেলা শহরের কিছুটা দূরে একটা গ্রামে। সারার বাবা নেই।

-তোমাকে এবারে বাড়ি যেতে হচ্ছে হঠাৎ? কোন বিশেষ দরকার? ইপ্তি সবাইকে তুমি করে বলে। একটু ফর্মাল ধরনে।

-হ্যা, আমার বড় ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখা হয়েছে, আমি গেলে বিষয়টা ফাইনাল হবে। তাই।

-তাহলে তো খুবই স্পেশাল বিষয়।

-হ্যা, তা তো অবশ্যই। বড় ভাইয়ার বিয়ে নিয়ে আমরা সবাই খুবই এক্সাইটেড।

-তাহলে তো যাওয়াই উচিত। এবারই বিয়ে হবে?

-না, বিয়ে হবে ডিসেম্বরে। এখন কথা ফাইনাল হবে।

-ভাইয়া কি করেন?

-ভাইয়া বাবার ব্যবসাই দেখাশোনা করেন। আমাদের গ্রামেই।

-আচ্ছা। আমি এবার ট্যুরে যাওয়ার জন্য পারমিশন আনলাম মামামের কাছ থেকে। আমাকে তো যেতে দিতে চায় না সহজে। মামাম আবার রাজশাহী যাবেন। আমার মামাবাড়িতে। সেটা আমি মিস করলাম।

কথা বলতে বলতে ওরা পৌছে গেলো ক্যাফেটেরিয়ার ছাদে।
কিন্তু আগেরবার যতো উৎসাহ নিয়ে কথা হয়েছিলো, এবার দেখা গেলো কেউ আগ্রহী না। অনেকেই বাড়ি যেতে চায়৷ ছুটির পরে কয়েকটা ভাইভা, সেটার জন্য অনেকে প্রিপারেশন নিতে চায়। মোটকথা কেউ আর কেমন যেন এক্টিভ হলো না৷ দুজন ছেলে ছাড়া। ইপ্তি খুবই হতাশ হয়ে গেলো৷ ওদের সাথে তো আর ইপ্তি একা যেতে পারবে না।

মিটিং শেষে ইপ্তি মন খারাপ করে বললো, দেখলে আমি কি মিসটা করলাম। মামামের সাথেও যাবো না বলেছি। এখন কি করি!

সারা বললো, চলে যাও এখন!

-নাহ, এখন ওখানে যেতে ইচ্ছে করছে না। আমার একটা রিফ্রেশিং ট্যুর দরকার। মামা বাড়িতে সবাই বড়, আমার আরাম লাগে না।

-ইপ্তি আমার বাড়িতে যাবে? তিন চারদিনই তো, তোমার ভালো লাগবে। আমাদের বাড়িটা একদম নদীর পাড়ে। ভাইয়া খুব সুন্দর করে বসার জায়গা করে দিয়েছে, বাড়ির সামনে বড় রাস্তা, ধানক্ষেত। এই সময়ে বর্ষাও থাকে, বড় করে ভাসান হয় নদীতে, ভালো লাগবে তোমার।

সারা খুব আগ্রহ করে বললো, ইপ্তির মনে হলো যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মামাম কি রাজী হবে, মামামকে মিথ্যে বলে যাবে!!

ইপ্তি বললো, আচ্ছা সারা, আমি মামামের সাথে কথা বলে তোমাকে জানাই। আমার তো শুনেই যেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু মামাম রাজী না হলে..

-আচ্ছা আন্টিকে আমার মায়ের সাথে কনফারেন্সে কথা বলিয়ে দিবো। তুমি ফোন কইরো আমাকে।

-আচ্ছা।

সারা হোস্টেলে চলে গেলো। ইপ্তি গেলো পার্কিয়ের দিকে। ইপ্তির হোস্টেলে সিট থাকলেও সে নিয়মিত থাকে না। পরীক্ষা থাকলে বা পড়ার চাপ থাকলে এসে থাকে। ধানমন্ডিতে ওদের বিশাল ফ্ল্যাটে মানুষ মাত্র তিনজন, আর দুজন হেল্পিং হ্যান্ড। ইপ্তির আর ভাইবোন নেই, সে একাই।

আশ্চর্য বিষয় হলো, ইপ্তির মামাম আফরোজা আহমেদ খুব সহজে রাজী হলেন ইপ্তিকে সারার সাথে গ্রামে যেতে দিতে। তিনি সারার মায়ের সাথে কথাও বলে নিলেন। ইপ্তির অদ্ভুত একটা আনন্দ হতে লাগলো। এরকম কখনো হয়নি, একদম অপরিচিত একটা জায়গায় সে বেড়াতে যাচ্ছে। ঠিক ট্যুরের মতো না। কিছুটা অন্যরকম।

ইপ্তি পরের সপ্তাহে নাইটকোচে রওনা দিলো সারার সাথে। বাস যখন বাঁধাল বাজারে থামলো, তখন সূর্য মাত্র উঠেছে, রোদটা কি মিষ্টি। ইপ্তির ঘুম ভাঙলো সারার ডাকে, সারা, এসে পড়েছি, ওঠো। ইপ্তি আড়মোড়া ভেঙে উঠে তাকলো। রাস্তার পাশে ছোট ছোট একতলা দোতলা মার্কেট। বেশিরভাগই ঝাপ বন্ধ। দুয়েকটা খুলেছে, পরোটার জন্য ময়দা দলাই মলাই চলছে।
দোকানের সামনে বড় চুলায় আগুন জ্বালানো হয়েছে।

বাস থেকে নেমে সারা বললো, ইপ্তি, শাফি ভাইয়া আসছে। ঠিক চলে আসছে আমাদের নিতে।

ইপ্তি তাকিয়ে দেখলো চেক ট্রাউজার আর অলিভ রঙের টিশার্ট পড়া একজন রাস্তার ওপাশ থেকে এপাশে আসছে।
বেশ লম্বা, ফর্সা আর মাথা ভরা কোকড়া চুল।

ইপ্তি জিজ্ঞেস করলো, এই ভাইয়ার বিয়ে?

সারা বললো, হ্যা।

শাফি হাসিমুখে এগিয়ে এলো ওদের দিকে। ইপ্তির কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হতে লাগলো, একদম অচেনা!!

 

###

রাস্তার ওপাশে অটোরিক্সা দাঁড়িয়ে আছে, শাফির সাথে ইপ্তির আলাপ করিয়ে দিলো সারা।
-ভাইয়া, ইপ্তি, আমার ক্লাশমেট।

-আচ্ছা, ইপ্তি, কষ্ট হয়নি তো আসতে?

ইপ্তি হেসে উত্তর দিলো, জ্বী না, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলে এসেছি।

শাফি ইপ্তির দিকে স্বাভাবিক ভাবে তাকিয়ে হাসলো, সারার ক্লাশমেট কিন্তু সারার মতো ম্যাচিউরড ভাবটা নেই চেহারায়, ছোট ছোট চুল চূড়া করে বাঁধা, চোখে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা।
রাস্তা পাড় হয়ে সারা একটা পোস্টারের দিকে তাকিয়ে বললো, ভাইয়া, বাণী কাকা এবার ইলেকশন করছে!!

ইপ্তি তাকিয়ে দেখলো, শ্রী বাণীভূষণ সাহার প্রণাম নিন, লেখা পোস্টার। পেটমোটা এক লোক হাতজোড় করে পোস্টারে দাঁড়িয়ে আছে।

শাফী বললো, হুম, করবে।

-তুই সাপোর্ট দিবি?

-আমার সাপোর্টে কি আসে যায়!!

-আসে যায় না? মদীনা মার্কেটের সবাই তোর কথায় ভোট দিবে। এতো গুলি দোকান, আব্বার কাছের লোকেরাও তোকে জিজ্ঞেস করবে।

-জিজ্ঞেস করলে বলবো, যাকে ইচ্ছে দেন। আমার কোন সমস্যা নেই।

-সবাই যে বলে…..

-সারা চুপ করো তো, সারারাত জার্নি করে এসেছো। তোমাদের আমি এসব নিয়ে কথা বলতে না করেছি!

ইপ্তি চুপচাপ শুনছিলো, তবে কিছু বুঝতে পারছিলো না। রাস্তাটা একদম নতুন মনে হয়, সকালের শিশিরে কালো পিচ চিক চিক করছে।

সারাদের বাড়িটা একদম নদীর পাড়ে, বাইরেটা সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া দোতলা বিল্ডিং। উপরে একটা ঘরে টিনশেড করা।

-সারা, এই নদীর নাম কি?

-ওহ, এটা বলেশ্বর নদী। ঠিক নদী না, এটা বড় খাল, গিয়ে নদীর সাথে মিশেছে।

নদী ভরা কচুরিপানা। বেগুনি রঙের ফুল ভেসে অপার্থিব সৌন্দর্য সৃষ্টি করছে।

ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে নিলো ইপ্তি আর সারা। গরম ঘি ভাতের সাথে আলুভর্তা আর ডিম ভাজা।

ইপ্তি সকালে ভাত খায় না। কিন্তু মামাম বলে দিয়েছে, বেড়াতে গেলে সেখানে এমন কিছু করতে হয় না যাতে বাড়ির সকলে অপ্রস্তুত হয়, দু তিন দিন, ওরা যেমন সেভাবে থেকো, যা খাবে, তাই খেয়ে নিও।

তাই ইপ্তি কোন কথা না বলে খাওয়া শেষ করলো অবশ্য খেতে ভালোই লাগছিলো, গতরাতে সেভাবে খাওয়া হয়নি।
ডাইনিং টেবিলে বসেই দেখলো শাফি বের হয়ে যাচ্ছে।

-সারা, শাফি ভাইয়া কিসের বিজনেস করেন?

-আমাদের একটা মার্কেট আছে, মদীনা মার্কেট, বাজারের মাঝখানেই, ওখানে দুইটা বড় কাপড়ের দোকান আছে।
সায়েরা ক্লথ স্টোর আর শরীফ গার্মেন্টস। এগুলো দেখাশোনা করে। মাছের ঘের আছে, আর কি কি সিজনাল বিজনেস আছে, আমি জানি না।

-সিজনাল বিজনেস কি?

-সিজনাল বিজনেস মানে আমের সময় আম, সুপুরির সময় সুপুরি তারপর নারকেল এগুলো কেনা বেচা করা আর কি।

ইপ্তি চোখ বড় বড় করে বললো, এগুলো ভাইয়া কেনা বেচা করে!!

সারা বললো, হ্যা, কেনো বলো তো, সমস্যা কি? আমার আব্বা এগুলোই করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পরে ভাইয়া দেখছে।

-না এমনিই, ভাইয়া এতো ইয়াং! সে পড়ছে কোথায়?

-ভাইয়া বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলো, ফার্স্টইয়ারে কয়েকমাস ক্লাশ করার পরে আমার আব্বা মারা গেলেন। ভাইয়ার তখন এখানে আসা লাগলো। আব্বার লোন ছিলো, ব্যবসা, ভাইয়া না ধরলে সব ভেসে যেতো, মেডিকেলের পড়া তো আর গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করার মতো না৷ পরে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ইংলিশে মাস্টার্স করেছে।

-সরকারি মেডিকেলে পড়া ছেড়ে দিলো!!!

-ছেড়ে দিতে হইছে, মেজ ভাইয়া তখন আরো ছোট। আমার আম্মাও বললেন, শাফি তোর আর যাওয়া লাগবে না!

-ইশ্!

-ইপ্তি, এটা নিয়ে ভাইয়ার সামনে কিছু বইলো না, তার হয়তো মনে কষ্ট আছে, মেজ ভাইয়া বিবিএ পড়লো, আমাকে এতো টাকা দিয়ে প্রাইভেটে পড়াচ্ছে হয়তো নিজের কষ্ট কমানোর জন্য।

-আরে না না, আমি কেন এতো কথা বলতে যাবো।

ইপ্তি বেসিন থেকে হাত ধুয়ে আসে।

 

###

ইপ্তিকে নিয়ে সারা পুরো বাড়িটা ঘুরে দেখালো। ছাদের টিনশেড ঘরটা ইপ্তির খুব পছন্দ হলো, একটা চৌকির উপরে শীতলপাটি বিছানো, চারপাশে বড় বড় জানালা।
কিছু বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা।
ছাদে বড় বড় ড্রামে আম গাছ, বাওকুল গাছ লাগানো হয়েছে।
-ইপ্তি বৃষ্টি হলে ছাদে আমরা পানি আটকে লাফালাফি করি, একদিন যদি ঝুম বৃষ্টি হয়, তাহলে দেখবে।

-ছাদে কে থাকে?

-সবাইই আসে, বৃষ্টির সময় ভাইয়া থাকে, তার ঝম ঝম আওয়াজ পছন্দ, তাই এটা ছাদ দেয় নি।

-আচ্ছা।

একটু থেমে ইপ্তি জিজ্ঞেস করলো, ভাইয়ার বিয়ে কোথায় হচ্ছে?

-মহিষপুরে, আমাদের মামাবাড়ির পাশেই।

-মেয়ে কি করে?

-এবার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিবে।

-কি বলো, ভাইয়া তোমার বড় না? পাত্রী তো তোমার চাইতেও চার বছরের ছোট!

-ভাইয়া আমার নয় বছরের বড়।

-এতো ডিফারেন্সে বিয়ে হলে এডজাস্ট হবে?

-এটা আমাদের এখানে তেমন কিছু না, অহরহ এমন বিয়ে হচ্ছে। তাছাড়া ভাইয়া বিয়েতে রাজী হচ্ছিলো না, এবারে মা জোর করে রাজী করিয়েছে।

-কেন রাজী হচ্ছিলো না?

-সেটা তো জানি না, বলতো একটু গুছিয়ে নিই।

-বুঝতে পেরেছি। কবে যাবে তোমরা মেয়ের বাড়িতে?

-কাল যাবো, আমরা কেন, তুমিও যাবে, আমার মামাবাড়িও ঘুরে আসবে।

-এই না না, আমি তোমাদের এখানেই গেস্ট, এখন ওখানে গেলে কেমন দেখায়!!

-কেমন দেখাবে কেন, আমার বন্ধু তুমি, যেতেই পারো।

নিচ থেকে রহিমা বুয়া ডাকছে, সারাপু আপনেরে বোলায়!!

-ইপ্তি মা ডাকছে, নিচে যাই চলো!

-আমি একটু এই ঘরটায় বসি? বই গুলো দেখবো!

-আচ্ছা আচ্ছা, থাকো!

-বাই দ্য ওয়ে, বোলায় মানে কি?

সারা হেসে বললো, ডাকে।

সারা চলে গেলো আর ইপ্তি ঘরে ঢুকলো। অনেক রকম বই আছে, ফিকশন নন-ফিকশন, অনুবাদ, সবই ছড়ানো ছিটানো, ইপ্তি বই গুলো গুছিয়ে রাখলো একজায়গায় তারপর একটা বই নিয়ে কয়েক পৃষ্ঠা পড়তে শুরু করলো ওয়ালে হেলায় দিয়ে বসে। রাতের ক্লান্তিতে কখন যে চোখ লেগে এলো, টের পেলো না!

শাফি হঠাৎ ছাদের ঘরে এসে চমকে গেলো, বুকের উপর বই নিয়ে আধশোয়া হয়ে ইপ্তি ঘুমাচ্ছে। চশমা চোখে।
কেন যেন ইপ্তিকে খুব ইনোসেন্ট লাগছে দেখতে, শাফি বেশ কিছুক্ষণ দূর থেকে তাকিয়ে রইলো, কেউ তো দেখছে না। পরক্ষনেই নিজেই লজ্জা পেয়ে গেলো, সারার বন্ধু, এভাবে তাকানোটা খুবই লজ্জাজনক।
ইপ্তিকে না ডেকেই চলে যাচ্ছিলো শাফি তখন ইপ্তি নড়ে সোজা হয়ে বসলো, শাফিকে দেখে একটু চমকে গেলো, কি বলবে ভেবে পেলো না।

তারপর ইতস্তত না করেই বললো, বই পড়তে গিয়ে চোখ লেগে আসছিলো, আপনি আসুন ভেতরে, আমি চলে যাচ্ছি।

-না না, আমার তেমন কাজ নেই। এমনিতেই এসেছিলাম। তুমি থাকো।

-আসুন ভেতরে।

শাফীর হাসি পেলো, মনে মনে ভাবলো, ইশ, আমার ঘর, আমাকেই ভেতরে ডাকছে, অদ্ভুত!

-সারা নিচে?

-হ্যা ওকে “বোলাইছে”!

ইপ্তির বলার স্টাইলে শাফি হেসে ফেললো।

ইপ্তির হঠাৎ মনে হলো, এই ভদ্রলোক খুব সুন্দর করে হাসে, তার চোখও হাসে।

-বোলাইছে কে?

-আন্টি মনে হয়।

-তুমি শব্দটা নতুন শিখলে?

-ইপ্তি হেসে ঘাড় নাড়লো।

শাফি বসতে বসতে বললো, ইপ্তি এক কাজ করো, এই রকম নতুন শব্দগুলো নোট করে ফেলো, এটা শিখলে। তাই।
নতুন যা দেখবে, সেটাই নোট করবো।

-আাইডিয়াটা দারুণ। আমি আজকেই লিখবো।

-তোমার বাড়ি কোথায়? আঞ্চলিকতা নেই?

-রাজশাহীতে, আছে তো, কিন্তু আমি একদম যাইনি, আর বাসায় কেউ এরকম করে কথা বলে না।

-আচ্ছা। বুঝতে পারছি। তোমার ঘুম পেলে নিচে সারার ঘরে গিয়ে ঘুমাও।

-না, এখানে ঠিক আছি!

– এখানে গরম লাগছে না?

-একটু লাগছে, কিন্তু পরিবেশটা দারুণ।

-ওহ আচ্ছা, ভালো।

এই ঘরটা শাফীর নিজের পছন্দমতো বানানো। এই ঘরটা ভালো বললো বলে, ওর খুব ভালো লাগলো।
কিছুদিন পরেই নতুন বউ আসবে, তার পছন্দ হবে কি না কে জানে।

-এতো বই আপনি পড়েন?

-হ্যা

-আমিও অনেক বই পড়ি, একটা বই বারবার পড়ি।

-আচ্ছা। এখন থেকে নিয়ে পড়ো।

-আচ্ছা, আপনি না বললেও নিতাম, “বেনামী চিঠি” ক্লাসিকটা আমার নেই, এটা পড়ে ফেলবো।

-আচ্ছা।

-আপনি আজ আপনার শপে যাবেন না?

-গিয়েছিলাম, চলে এসেছি। আবার বিকেলে যাবো।

-ওহ আচ্ছা, আপনার এফবি আইডি কি নামে? আমি এ্যাড করে ফেলি?

-আমার আইডি তোমার এ্যাড করতে ইচ্ছে করবে না।

-সে কি কেন?

– কারণ ভাইয়ার আইডির না সায়েরা ক্লথ স্টোর, সারা বলতে বলতে ঢুকলো।

ইপ্তি হা হয়ে গেলো, সত্যি আপনি এই নামে এফবি ইউজ করেন!!

শাফি বললো, আসলে এফবি আমার কাজে লাগে না, দোকানের একটা আইডি দরকার মনে করে সেটা ওপেন করে রেখেছি। রেগুলার কাস্টমাররা নক করে আসে।

-তার মানে আপনার সাথে গল্প করতে গেলে আসবে সায়রা ক্লথ স্টোর ম্যাসেজড ইউ!! রিডিকুলাস!!

সারা আর শাফি হেসে ফেললো। ইপ্তি নিচে চলো, মা সেয়াই পিঠা খেতে ডাকছে।

-সেয়াই পিঠা কি জিনিস?

-এটা এখানকার আঞ্চলিক পিঠা, চলো, গেস্ট এলে ম্যান্ডাটরী আইটেম, চলো হাসের মাংস দিয়ে খাবে।

ভাইয়া চল্ !

-হুম, তোরা যা, আমি আসছি!

সারা ইপ্তিকে নিয়ে চলে গেলো নিচে।

বৃষ্টি নামার আগে- পর্ব ২

 

শানজানা আলম
 

লেখালেখির অভ্যাস বাবার কাছ থেকে পাওয়া। তিনি গল্প বলেন, নিজের চারপাশের কথাগুলোই লিখে দৃশ্যমান করার চেষ্টা চলে অবিরাম। প্রফেসর বাবা এবং স্কুল শিক্ষিকা মায়ের বড় সন্তান এবং একমাত্র মেয়ে। শানজানা আলমের লেখার সবচেয়ে ভালোদিক হচ্ছে তার গল্প বলার সহজ সাবলীল ভঙ্গি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন সময় কাটে লেখালেখি নিয়ে। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ "চন্দ্রাহত" "নিশীথ রাতের বাদল ধারা" ‘রূপকথা নয়’ ইতিমধ্যেই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

Click Here to Leave a Comment Below 0 comments